চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনের নির্বাচনী ময়দান এখন সরগরম। প্রচারণার ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে বাকলিয়া এলাকায় এক বিশাল গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু সুফিয়ান। এ সময় তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের অপশাসন ও সীমাহীন দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি আজ খাদের কিনারায়। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরাতে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই।
১৭নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে আয়োজিত এই পথসভায় আবু সুফিয়ান বলেন, “বিগত কয়েক বছরে দেশবাসী কেবল উন্নয়নের ফাঁকা বুলি শুনেছে। কিন্তু বাস্তবে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের পকেট ভারী হয়েছে, আর সাধারণ মানুষ হয়েছে নিঃস্ব। বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিল এবং প্রকৃত উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। আমরা এবার ক্ষমতায় এলে কেবল মানুষের ভোটাধিকার নয়, বরং তাদের ‘ভাতের অধিকার’ বা অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”
ভোটারদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বক্তব্যে তিনি নিজেকে ‘বাকলিয়ার সন্তান’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, “আমি আপনাদেরই ভাই। আমাকে একবার আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন। নির্বাচিত হলে এই এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো—যেমন জলাবদ্ধতা, সরু রাস্তাঘাট এবং মাদক—এসবের স্থায়ী সমাধানে আমি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।”
বাকলিয়া এলাকার ভৌগোলিক ও সামাজিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নাজুক অবস্থা দীর্ঘদিনের। বিএনপি সরকার গঠন করলে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং বেকারত্ব দূরীকরণে একগুচ্ছ বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে। বিশেষ করে যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধের পথ থেকে সরিয়ে আনতে কর্মসংস্থানের ওপর জোর দেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
গণসংযোগকালে আবু সুফিয়ানের সাথে ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন চৌধুরী লিটনসহ স্থানীয় পর্যায়ের অসংখ্য নেতাকর্মী। সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে গণসংযোগটি এক বিশাল শো-ডাউনে পরিণত হয়। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তিনি লিফলেট বিতরণ করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।
আবু সুফিয়ান আরও বলেন, “বিএনপি সবসময়ই একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে বিশ্বাসী। আমরা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর জাতি হিসেবে পরিচিত করতে চাই। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে আপনাদের একটি মূল্যবান ভোট আমাদের পাথেয় হবে।”
পথসভা শেষে তিনি বাকলিয়ার বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে ব্যবসায়ী ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন। স্থানীয়রা জলাবদ্ধতা নিরসনে তার কাছে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি চাইলে তিনি নির্বাচিত হওয়ার প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ শুরু করার আশ্বাস দেন।

