আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী লড়াইয়ের মাঠ এখন বেশ উত্তপ্ত। বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে কৌতূহলের শেষ নেই। এই আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস শনিবার এক মতবিনিময় সভায় নির্বাচনী কারচুপি ও জালিয়াতি রোধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ধর্মীয় পোশাক বোরকাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যদি কেউ ভুয়া ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
রাজধানীর পল্টনে আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই সভায় হজ, রিক্রুটিং এবং ট্রাভেল এজেন্সির মালিকদের সঙ্গে নির্বাচন ও সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেন মির্জা আব্বাস। সেখানে তিনি বলেন, “আমরা বোরকাকে পরম শ্রদ্ধা করি। আমার মা নিজেও বোরকা পরতেন। কিন্তু এই পবিত্র পোশাক পরে যদি কেউ জাল ভোট দিতে আসে, তবে আমাদের কর্মীরা তা প্রতিহত করবেই। বোরকার আড়ালে জালিয়াতি সহ্য করা হবে না।”
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অস্বস্তিকর’ বলে অভিহিত করে মির্জা আব্বাস বলেন, হাসিনা সরকারের পতনের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল এক নতুন ও সুন্দর বাংলাদেশের। কিন্তু বাস্তব চিত্র এখনো পুরোপুরি পাল্টায়নি। তবে তিনি একটি জায়গায় স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, “হাসিনা সরকারের সময়ের তুলনায় আমরা এখন এক জায়গায় ভালো আছি যে, পুলিশ এখন আর আগের মতো উপদ্রব বা হয়রানি করে না। এই একটি দিক ছাড়া অন্য কোনো দিকে আমরা এখনো ভালো থাকতে পারছি না।”
দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক লড়াই ও ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “২৪ তারিখে হঠাৎ করেই সবকিছু হয়ে যায়নি। এই পথ তৈরিতে আমাদের হাজার হাজার কর্মী গুম হয়েছেন, শহীদ হয়েছেন। বছরের পর বছর আমরা জেল খেটেছি। আমরা আপনাদের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করেছি বলেই আজ আপনারা ভোটের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারছেন। এই স্বাধীনতা বা ভোটের অধিকার আমাদের কেউ দান করেনি, এটি আমরা লড়াই করে আদায় করেছি।”
নির্বাচনী কৌশল নিয়ে নেতা-কর্মীদের পরামর্শ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মিছিল বা সমাবেশ করা সহজ কাজ হতে পারে, কিন্তু আসল কাজ হলো ভোট সংগ্রহ করা। প্রতিটি ভোটারকে বোঝাতে হবে কেন তারা ধানের শীষে ভোট দেবেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশে যদি ১২ ঘণ্টার বেশি সময় দেরি করা হয়, তবে বুঝতে হবে কোনো অশুভ উদ্দেশ্য আছে। আগের নির্বাচনগুলোতে যেখানে সন্ধ্যার মধ্যে ফলাফল জানা যেত, এখন সেখানে ‘তিন দিন’ লাগার কথা কেন বলা হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মির্জা আব্বাস তার বক্তব্যে অভিজ্ঞতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতিতে নতুন প্রজন্ম যেমন সম্পদ, তেমনি অভিজ্ঞ মানুষের পরামর্শও অপরিহার্য। নিজেকে এলাকার পুরনো ও বিশ্বস্ত অভিভাবক হিসেবে দাবি করে তিনি বলেন, “এই শহরের ব্যবসায়ীরা জানেন আমি কোনোদিন কারও কাছ থেকে অনৈতিক কোনো সুবিধা নেইনি। আমি আপনাদের হয়ে কাজ করতে চাই।”
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা-৮ আসনকে কেন্দ্র করে এখনো গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। নির্বাচন ভণ্ডুল করতে বড় ধরণের অঘটন ঘটানোর চেষ্টা থাকতে পারে বলে তিনি কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। মির্জা আব্বাসের এই সাহসী বক্তব্য এবং কারচুপি রোধে ‘মাটি কামড়ে’ পড়ে থাকার ঘোষণা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

