টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহারণ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। ঠিক এমন মুহূর্তে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের জন্য ভেসে এলো এক স্বস্তির খবর। দলের অন্যতম স্তম্ভ এবং বিধ্বংসী ব্যাটার ডেভিড মিলার ইনজুরি কাটিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আসন্ন বিশ্বকাপের ময়দানে নামার জন্য তাকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
মিলারের এই ফেরা প্রোটিয়া শিবিরের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট এসএ২০-তে পার্ল রয়্যালসের হয়ে খেলার সময় অ্যাডাক্টর স্ট্রেইনের শিকার হয়েছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে এমন চোট কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল নির্বাচক ও সমর্থকদের মনে।
তবে সমস্ত শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ফিটনেস টেস্টে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন মিলার। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে, মিলার এখন ম্যাচ খেলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আগামীকালই (রোববার) দলের সাথে মুম্বাইয়ের উদ্দেশ্যে বিমানে চড়বেন এই অভিজ্ঞ ফিনিশার।
ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার অফিসিয়াল বার্তায় জানানো হয়, “প্রোটিয়া ব্যাটার ডেভিড মিলার আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য পূর্ণ চিকিৎসা ছাড়পত্র পেয়েছেন। এসএ২০ চলাকালীন চোট পাওয়ার পর এই সপ্তাহের নিবিড় ফিটনেস পরীক্ষায় তিনি সফল হয়েছেন।”
আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ডেভিড মিলারকে ধরা হয় অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনার হিসেবে। মিডল অর্ডারে তার উপস্থিতি দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ডেথ ওভারে বড় বড় ছক্কা হাঁকানোর সক্ষমতা তাকে প্রতিপক্ষ বোলারদের কাছে এক আতঙ্কে পরিণত করেছে।
এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা রয়েছে ‘ডি’ গ্রুপে। যেখানে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকছে নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত আসরে রানার্সআপ হওয়া প্রোটিয়ারা এবার ট্রফি জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি কানাডার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।
দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের চূড়ান্ত স্কোয়াডে অভিজ্ঞ ও তরুণদের এক দারুণ সমন্বয় রেখেছে। এইডেন মার্করামের নেতৃত্বে এই দলে রয়েছেন কুইন্টন ডি কক, কাগিসো রাবাদা এবং আনরিখ নর্কিয়ের মতো তারকা ক্রিকেটাররা। পাশাপাশি ডোনোভান ফেরেইরা এবং কেনা মাফাকার মতো প্রতিভাবান তরুণরাও নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাবেন।
ভারতীয় উপমহাদেশের কন্ডিশনে স্পিন মোকাবিলা এবং পেস আক্রমণ সামলানো—উভয় ক্ষেত্রেই মিলারের অভিজ্ঞতা দক্ষিণ আফ্রিকাকে এগিয়ে রাখবে। গত কয়েক বছরে মিলার নিজের খেলায় যে পরিপক্কতা এনেছেন, তা দলের ব্যাটিং গভীরতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তার ফেরা যেন প্রোটিয়া ব্যাটিং লাইনআপের হারিয়ে যাওয়া প্রাণ ফিরিয়ে আনল।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মিলারের অনুপস্থিতি প্রোটিয়াদের ব্যাটিং অর্ডারে যে শূন্যতা তৈরি করেছিল, তার সুস্থতা সেই ভয় দূর করেছে। এখন দেখার বিষয়, ইনজুরি থেকে ফিরে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে নিজের চেনা ছন্দে ফিরে প্রোটিয়াদের প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা উপহার দিতে পারেন কি না এই ‘কিলার মিলার’।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা স্কোয়াড: এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), কুইন্টন ডি কক, টনি ডি জর্জি, ডেভাল্ড ব্রেভিস, ডেভিড মিলার, ডোনোভান ফেরেইরা, মার্কো জানসেন, কেশভ মহারাজ, কাগিসো রাবাদা, কেনা মাফাকা, লুঙ্গি এনগিডি, জেসন স্মিথ, জর্জ লিন্ডে, করবিন বোশ এবং আনরিখ নর্কিয়ে।

