রাজধানীর মিরপুরে এক বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন, আগামী দিনে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ‘নিক্তিতে মেপে’ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে মিরপুরের দারুসসালাম এলাকার ওয়াক আপ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই নির্বাচনী জনসভায় তিনি দলের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামোর রূপরেখা তুলে ধরেন।
বক্তব্যের শুরুতেই ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, মায়েদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। সরকারের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি কঠোরভাবে বলেন, “কোনো মায়ের ইজ্জতের বিনিময়ে ফ্যামিলি কার্ড হতে পারে না। এক হাতে সরকারি কার্ড ধরিয়ে দেওয়া হবে আর অন্য হাতে নারীদের গায়ে হাত তোলা হবে—এই অপসংস্কৃতি বাংলাদেশে চলতে দেওয়া যায় না।”
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে জামায়াত আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাদের শাসনামলে চাঁদাবাজদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। তিনি বলেন, “আমরা কোনো দলের বা গোষ্ঠীর বিজয় চাই না; আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের মুক্তি। আর সেই বিজয়ের প্রতীক হলো দাঁড়িপাল্লা।”
বেকারত্ব দূরীকরণ নিয়ে জামায়াতের ভিন্নধর্মী পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কাউকে বেকার ভাতা দিয়ে পরনির্ভরশীল করতে চাই না। ভিক্ষাবৃত্তি বা ভাতা দিয়ে মানুষের ইজ্জত নষ্ট করা আমাদের লক্ষ্য নয়; বরং আমরা প্রতিটি মানুষের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই যাতে তারা সম্মানের সাথে বাঁচতে পারে।”
স্বাস্থ্যখাত নিয়ে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো হবে যেখানে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সবাই সমানভাবে মানসম্মত সেবা পাবেন। দরিদ্র মানুষকে চিকিৎসার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না।
এদিন বিকেল থেকেই মিরপুরের অলিগলি পেরিয়ে কর্মী-সমর্থকরা মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত আমিরের এই বক্তব্যকে দলের পক্ষ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ ইশতেহারের সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বক্তব্যের শেষে তিনি দেশবাসীকে আগামী নির্বাচনে ‘সাম্যের বাংলাদেশ’ গড়তে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

