ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পারদ এবার চড়ল এক নতুন শিখরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধের সূচনা করেন, তবে তার পরিণতি বা সমাপ্তি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার থাকবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। বুধবার গভীর রাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
গালিবাফ এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করলেন, যখন মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ধেয়ে আসছে মার্কিন নৌবাহিনীর এক বিশাল ‘আর্মাডা’ বা নৌবহর। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা করেছেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আলোচনা করতে তেহরানের হাতে সময় ফুরিয়ে আসছে। অন্যথায় ইরানের ওপর ‘পূর্বের চেয়েও ভয়াবহ’ হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছেন তিনি।
সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গালিবাফ স্পষ্ট করে বলেন, ইরান আলোচনার পথ থেকে কখনোই সরে আসেনি, তবে সেই আলোচনা হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে। তিনি অভিযোগ করেন, “ওয়াশিংটন শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কূটনীতিকে গলা টিপে হত্যা করছে। আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু জবরদস্তি বা ডিকটেশনকে আমরা সংলাপ মনে করি না।” তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের ওপর ষষ্ঠ দফার আলোচনার মাত্র দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ‘আলোচনার টেবিলে বোমা ফেলে’ পরিস্থিতি জটিল করেছে।
ইরানের এই জ্যেষ্ঠ নেতা ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে বলেন, “হয়তো মিস্টার ট্রাম্প একটি যুদ্ধ শুরু করতে পারেন, কিন্তু সেটি কীভাবে শেষ হবে তার নিয়ন্ত্রণ তার হাতে থাকবে না।” তিনি ট্রাম্পকে পরামর্শ দেন যে, তিনি যদি সত্যিই নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রত্যাশা করেন, তবে তার চারপাশের ‘যুদ্ধবাজ’ এবং ‘আত্মসমর্পণপন্থী’ কর্মকর্তাদের থেকে দূরে থাকা উচিত। গালিবাফ জোর দিয়ে বলেন, যতক্ষণ ইরানি জনগণের অর্থনৈতিক অধিকার ও স্বার্থের নিশ্চয়তা না মিলবে, ততক্ষণ কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা সম্ভব নয়।
বর্তমানে পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বিশাল মার্কিন নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি অবস্থান করছে। একে কেন্দ্র করে ইরানও তার সামরিক বাহিনীকে ‘আঙুল ট্রিগারে রাখা’র মতো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, যেকোনো সামরিক অ্যাডভেঞ্চারিজমের দাঁতভাঙা জবাব দিতে তারা প্রস্তুত।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান। দেশ দুটি ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা বা ভূমি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। আঞ্চলিক এই মেরুকরণ এবং তেহরানের অনমনীয় অবস্থান ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের কৌশলকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

