আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার মিরপুর-কাফরুল (ঢাকা-১৫) আসনে ব্যাপক নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে উত্তর কাফরুল হাই স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এক বিশাল গণসংযোগে তিনি ঘোষণা করেছেন, পেছনের তিক্ততা ভুলে একটি ‘ফরোয়ার্ড লুকিং’ বা প্রগতিশীল ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চান তিনি।
গণসংযোগকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়তে চাই। অতীতের বিষয় নিয়ে আমরা আর বিভাজনের রাজনীতি করতে চাই না। পেছনে কী হয়েছে তা নিয়ে কামড়াকামড়ি না করে সবাই মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী জাতিকে আর বিভক্ত করতে চায় না, বরং একটি ঐক্যবদ্ধ সমৃদ্ধ জাতি গড়াই তাদের মূল প্রত্যয়।
ঢাকা-১৫ আসন নিয়ে নিজের আবেগের কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “এই এলাকাকে আমি অন্তরে ধারণ করি। মিরপুর কেবল ঢাকার একটি অংশ নয়, এটি সাহস ও জুলাই বিপ্লবের অন্যতম দুর্গ। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই মিরপুরই আজ যানজট, জলাবদ্ধতা আর মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। আপনারা সুযোগ দিলে আমি এই এলাকাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য আদর্শ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলব।”
নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিষয়ে উদার মনোভাব ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “এখানে আমার অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন, সবাইকে আমি স্বাগত জানাই। আসুন, আমরা কাদা ছোড়াছুড়ি না করে ভদ্র ও সুশৃঙ্খলভাবে প্রচার চালাই। জয়-পরাজয়ের ভার জনগণের ওপরই থাকুক। জনগণ যাকে পছন্দ করবেন, আমরা তাকেই অভিনন্দন জানাব।”
পেশাদারী ও সামাজিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মিরপুরবাসীর প্রধান সমস্যা হলো সুপেয় পানির সংকট ও জলাবদ্ধতা। একটু বৃষ্টিতেই কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও পল্লবী এলাকায় যে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, তার টেকসই সমাধান করা হবে। এছাড়া তিনি মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গড়ার পাশাপাশি নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন ও আবাসন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।
ফুটপাত দখলমুক্ত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যাদের চাঁদাবাজির মানসিকতা আছে, তারা কখনো ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পারবে না। আল্লাহ জামায়াতে ইসলামীকে এই অভিশাপ থেকে মুক্ত রেখেছেন।” তিনি আরও জানান, নির্বাচিত হলে মেট্রোরেলের পরিসর বাড়ানো এবং মিরপুরকে ঢাকার মূল হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
গণসংযোগে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় অভিভূত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইনসাফের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারবেন এবং প্রতিটি নাগরিক তার জান-মালের পূর্ণ নিরাপত্তা পাবেন।

