মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা আরও ঘনীভূত করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌ শাখার উপপ্রধান মোহাম্মদ আকবরজাদেহ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যদি কোনোভাবে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে ইরান তার অবস্থান থেকে ‘এক মিলিমিটারও’ পিছু হটবে না। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই হুঙ্কার দেন।
আকবরজাদেহ বলেন, “ইরান কখনো যুদ্ধ চায় না, কিন্তু যুদ্ধের জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। শত্রুরা যদি হামলার দুঃসাহস দেখায়, তবে এবার আর কোনো রক্ষা নেই। আমরা কেবল আত্মরক্ষাই করব না, বরং সম্মুখপানে অগ্রসর হব।” তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দিকে আরও একটি বিশাল নৌবহর বা ‘আর্মাডা’ পাঠানোর ঘোষণা দিয়ে তেহরানকে চুক্তিতে আসার চাপ দিচ্ছেন।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ধমনী হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে ইরান এবার আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। আকবরজাদেহ দাবি করেন, এই কৌশলগত জলপথ এখন সম্পূর্ণ আধুনিক ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রযুক্তির মাধ্যমে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আকাশ, সমুদ্রপৃষ্ঠ এবং সমুদ্রের তলদেশ—সবখানেই ইরানের নজরদারি রয়েছে এবং কোন দেশের পতাকাবাহী জাহাজ ওই পথ দিয়ে যাবে, তা এখন তেহরানই নির্ধারণ করছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্দেশেও কড়া বার্তা দিয়েছে আইআরজিসি। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ড, আকাশসীমা বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেয়, তবে সেই দেশকেও ‘শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে যে তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় তাদের মাটি ব্যবহার করতে দেবে না।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এক উত্তপ্ত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। বিশেষ করে গত ডিসেম্বরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং এরপর ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক হুমকি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। গত ২৬ জানুয়ারি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছানোর পর থেকেই ইরান তাদের আকাশসীমা আংশিক বন্ধ করে লাইভ-ফায়ার মহড়া শুরু করেছে।
মোহাম্মদ আকবরজাদেহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যে যুদ্ধ শুরু করার ছক আঁকছে, তা থেকে তাদের লাভবান হতে দেওয়া হবে না। বিশ্ব অর্থনীতি ভুগুক তা আমরা চাই না, কিন্তু আঘাত এলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ।” তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের ভাণ্ডারে এমন কিছু ‘অজানা সামরিক সক্ষমতা’ রয়েছে যা সঠিক সময়ে বিশ্বকে অবাক করে দেবে।
তেহরানের রাজপথে এখন মার্কিনবিরোধী পোস্টার আর বিলবোর্ডে সয়লাব, যেখানে মার্কিন রণতরী ধ্বংসের কাল্পনিক দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কূটনীতির টেবিল নাকি যুদ্ধের ময়দান—কোন দিকে মোড় নেবে এই উত্তেজনা, আগামী কয়েক দিন তা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

