আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের প্রার্থী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ২০১৪, ২০১৮ কিংবা ২০২৪ সালের মতো একতরফা বা কেন্দ্র দখলের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি এ দেশের মানুষ আর মেনে নেবে না। কেউ যদি আবারও অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে, তবে তা কেবল দুঃস্বপ্নই থেকে যাবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে ডা. তাহের অভিযোগ করেন, জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে থাকা প্রতিপক্ষ দলগুলো এখন কেন্দ্র দখল ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টিকেই বিজয়ের মূল কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. তাহের সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “নারীরা আমাদের মা-বোন। যারা নারী অধিকারের কথা বলে মুখে ফেনা তোলেন, তারাই এখন রাজনৈতিক হীনস্বার্থে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও হেনস্তা করছেন।” এই ধারাবাহিক হামলার প্রতিবাদে আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের মহিলা বিভাগের উদ্যোগে একটি বড় ধরণের প্রতিবাদী সমাবেশের ঘোষণা দেন তিনি।
জামায়াতে নারীদের গুরুত্ব কম—এমন অপপ্রচারের জবাব দিয়ে ডা. তাহের বলেন: জামায়াতে ইসলামীর মোট সদস্যের ৪৩ শতাংশই নারী, যা সংখ্যায় প্রায় দেড় কোটির কাছাকাছি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) অনুযায়ী রাজনৈতিক দলে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার শর্ত একমাত্র জামায়াতই সফলভাবে পূরণ করেছে। আসন্ন নির্বাচনে নারী কর্মীরা পুরুষদের চেয়েও বেশি সক্রিয়ভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাচ্ছেন।
নিজের নির্বাচনী এলাকা চৌদ্দগ্রামের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমার মূল্যায়নে আমি পুরুষদের চেয়ে নারী ভোট বেশি পাব। কারণ মহিলারা প্রকৃতিগতভাবেই শান্তিপ্রিয় এবং তারা কোনো ধরণের উগ্রতা বা বিশৃঙ্খলা পছন্দ করেন না। জামায়াতের এই ক্রমবর্ধমান নারী জনসমর্থন দেখে প্রতিপক্ষ দলগুলো ভীত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।”
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া। কিন্তু কমিশন যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কেন্দ্র দখলের মহড়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে এর ফলাফল দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না। “জোর করে ক্ষমতায় গেলে আগের চেয়েও ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে,” বলে তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

