নির্বাচনী রাজনীতির ময়দান ছাড়িয়ে উত্তাপ এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। সরাসরি ছাত্রদলকে দায়ী করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যারা একজন প্রার্থীর প্রতি ন্যূনতম সহিষ্ণুতা দেখাতে পারে না, তারা ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের প্রতি কীভাবে ‘ইনসাফ’ বা ন্যায়বিচার করবে?
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, রাজধানীর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের সামনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ছাত্রদলের কর্মীরা। গত ১৫ বছরের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ত্যাগী যোদ্ধা পাটওয়ারীকে কেন এত ভয় পাওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর পোস্টে ভোটারদের উদ্দেশে এক বড় বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “ঢাকা-৮ আসনের ভোটাররা এবার সিদ্ধান্ত নেবেন, আপনারা কি তাদের সংসদে পাঠাবেন যারা বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে শত কোটি টাকা বানিয়েছে এবং নেতাকর্মীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আঁতাতের ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে?” তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী মত সহ্য করতে না পেরে এভাবে হামলে পড়ার চর্চা প্রমাণ করে যে এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে। ঢাকা-৮ আসনের ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের পিঠা উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে ‘ধানের শীষ’ স্লোগান দিয়ে একদল যুবক তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। নাসীরুদ্দীনের মিডিয়া উইংয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলাকারীরা মূলত বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের অনুসারী।
এই ঘটনার পর হাসনাত আবদুল্লাহ দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, “নিজেদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় সচেষ্ট হোন। গুন্ডা-পান্ডা কিংবা লুটেরা মাফিয়াদের হাতে নিজেদের ভবিষ্যৎ তুলে দেবেন না।” তাঁর এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করে।
হামলার ঘটনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে একজন হেভিওয়েট প্রার্থীর ওপর এমন হামলা ভোটের পরিবেশকে আরও সংঘাতময় করে তুলবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

