নির্বাচনী লড়াই যত ঘনিয়ে আসছে, রাজপথের উত্তাপ ততই বাড়ছে। মঙ্গলবার দুপুরে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, মির্জা আব্বাসের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ ও ছাত্রদলের কিছু সদস্য তাঁদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি পুরো বাংলাদেশের মানুষের কাছে এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার দিলাম।”
রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাঁদের কোনো কালো টাকা নেই, নেই কোনো পেশিশক্তি। অথচ শুধুমাত্র দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় তাঁদের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, হাবিবুল্লাহ কলেজে যাওয়ার আগেই সেখানে প্রশ্নফাঁস ও গভর্নিং বডির অনিয়মের খবর তাঁর কানে এসেছিল। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া ওই কলেজের অধ্যক্ষ ও বর্তমান গভর্নিং বডি মূলত মির্জা আব্বাসের ইশারাতেই পরিচালিত হচ্ছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন এই নেতা। তিনি বলেন, “এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তিনি কি দলে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেবেন, নাকি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন?” দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মির্জা আব্বাসকে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের দাবিও তোলেন তিনি।
পুরানো স্মৃতি রোমন্থন করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এক সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে দোয়া করেছিলেন এবং দেশ রক্ষার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর মতে, আজ যদি খালেদা জিয়া সুস্থ থাকতেন, তবে নিজ দলের নেতাদের এমন কর্মকাণ্ড দেখে তিনি লজ্জিত হতেন। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার নেতৃত্বে ছিলেন এমন কিছু সাবেক ছাত্রদল নেতা, যাঁদের বর্তমানে কোনো ছাত্রত্ব নেই। এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে মির্জা আব্বাসের এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির নামও উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে পাটওয়ারী বলেন, “যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয় এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের গ্যারান্টি না থাকে, তবে আমরা কেন মাঠে থাকব—তা নির্বাচন কমিশনকে পরিষ্কার করতে হবে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঢাকা-৮ আসনে ভোটে জিতি বা না জিতি, কোনো সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হতে দেওয়া হবে না। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির দাঁতভাঙা জবাব দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আহত নেতাকর্মীদের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এই হামলার পর ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যা সাধারণ ভোটারদের মনেও শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে।

