দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীদের ‘দেশ ও জাতির মুক্তির প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা সদরে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ একবার ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু এখন আমরা দেখছি নতুন রূপে স্বৈরাচারী শক্তি মাথাচাড়া দিচ্ছে। এই অপশক্তিকে রুখতে হলে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই।” তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মার্কা দেখার চেয়ে বড় বিষয় হলো কোন জোট দেশের মানুষের প্রকৃত মুক্তি ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে পারবে।
সমাবেশে তিনি বোয়ালখালী আসনে শাপলাকলি প্রতীকের প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফকে জয়যুক্ত করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “আপনাদের একটি ভোট কেবল একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত করবে না, বরং এটি বাংলাদেশকে সুশাসন, দীর্ঘমেয়াদী স্বাধীনতা ও সুপরিকল্পিত সংস্কারের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ৫ আগস্ট যেভাবে আমরা রাজপথে ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছি, ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের দোসরদের নস্যাৎ করে দেব।”
নির্বাচন ও সংস্কারের প্রশ্নে একটি বড় রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর যারা সংস্কারের বুলি আওড়িয়েছে, এখন সুযোগ পেয়ে তারাই সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। আমরা শুধু আগামী পাঁচ বছরের সেবা নয়, বরং পরবর্তী প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দিতে কাজ করছি।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার ও জোটের লক্ষ্য কেবল ক্ষমতা নয়, বরং রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো সংস্কার করা।
বক্তব্যে তিনি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি এবং যারা নতুন স্বৈরাচার হতে চায়, তারা গণভোটে ‘না’ ভোট জয়যুক্ত করতে এক ধরনের গোপন আঁতাত করেছে। এই অশুভ ঐক্য ভাঙতে সবাইকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আসিফ মাহমুদের মতে, গণভোটের মাধ্যমেই আগামীর রাষ্ট্রব্যবস্থা কেমন হবে, তার চূড়ান্ত ফয়সালা হবে।
এদিন সকালে লোহাগাড়ায় জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ইশমামুল হকের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে এনসিপির নির্বাচনী পদযাত্রা শুরু হয়। সমাবেশে আসিফ মাহমুদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম এবং এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন। চট্টগ্রামের এই পদযাত্রা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, বরং চব্বিশের বিপ্লবের শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করতে রাজনীতিতে এসেছি। গ্রামের অলিগলি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের যে রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা চলছে, জনগণ তা মেনে নেবে না।” সুশাসন ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে ১১-দলীয় জোটের হাতকে শক্তিশালী করার দাবি জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

