আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে নাটকীয়তা যেন থামছেই না। দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং সরকারের পক্ষ থেকে আসা পরস্পরবিরোধী খবরের জেরে এখন ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে। একপক্ষ বলছে সালমান আলি আগার দল খেলবে, তো অন্যপক্ষ বলছে বয়কট এখন স্রেফ সময়ের ব্যাপার। এই টানাপোড়েনের মাঝে সবশেষ খবর হলো—পাকিস্তান এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। আগামী শুক্র অথবা সোমবারের আগে বিশ্বক্রিকেট জানতে পারছে না পাকিস্তানের অবস্থান ঠিক কী।
ঘটনার সূত্রপাত বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কটকে কেন্দ্র করে। আইপিএল স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তার অজুহাতে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। তারা ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানালেও আইসিসি তাতে সায় দেয়নি। উল্টো কঠোর অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই পুরোটা সময় পাকিস্তান বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অভিন্ন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইসলামাবাদে এই সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন পিসিবি চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। ধারণা করা হয়েছিল, আজই হয়তো চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পর পিসিবি সূত্রে জানা গেছে, আরও কিছু কারিগরি ও কূটনৈতিক দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি এর আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, একদিন আগে দল ঘোষণা করা হলেও বিশ্বকাপে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে সরকারের সবুজ সংকেতের ওপর। তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা সবার আগে। বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানও চায় না কোনো রকম ঝুঁকি নিতে। তবে আইসিসির চাপের মুখে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মতো অনড় থাকে, নাকি কোনো সমঝোতায় আসে—তা নিয়েই এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
পাকিস্তানের এই অনিশ্চিত অবস্থানের কারণে বিশ্বকাপের সূচি ও বাণিজ্যিক দিক নিয়ে চিন্তায় পড়েছে আইসিসি। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই যেখানে বিশাল অর্থের সমীকরণ, সেখানে পাকিস্তান না থাকলে টুর্নামেন্টের জৌলুস হারাবে অনেকটাই। তবে পিসিবি মহলে গুঞ্জন রয়েছে, ভারত যদি এশিয়া কাপ বা অন্য দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের দাবি না মানে, তবে এই বিশ্বকাপ বয়কটকেই তারা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
এদিকে, পাকিস্তানের ক্রিকেট সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, বাংলাদেশের মতো মাথা নত না করে সম্মান নিয়ে বিশ্বকাপ বর্জন করাই শ্রেয়। আবার অনেকের মতে, আইসিসির নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়ার চেয়ে ক্রিকেটীয় লড়াই বজায় রাখা জরুরি। সব মিলিয়ে ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হওয়া এই বৈঠক কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এখন ক্রিকেট বিশ্বের নজর আগামী শুক্র ও সোমবারের দিকে। যদি পাকিস্তান সত্যিই বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে সেটি হবে আইসিসির জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা। মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিতর্কের আগুন এখন লাহোর থেকে করাচি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তান কি ক্রিকেটের স্বার্থ দেখবে, নাকি বাংলাদেশের সংহতি আর নিজেদের নিরাপত্তা উদ্বেগকে প্রাধান্য দেবে—তার উত্তর মিলবে কয়েক দিনের মধ্যেই।

