বাংলাদেশে গত ৫৪ বছর ধরে চলে আসা ‘চটকদারি কথা ও প্রতারণার রাজনীতি’র দিন শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করার এই সুযোগ আর কাউকে দেওয়া হবে না।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-৭ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী হাফেজ হাজী মো. এনায়েত উল্লাহর সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘গণভোট’ নিয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর রহস্যময় ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, “দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল ঘণ্টার পর ঘণ্টা মঞ্চে ভাষণ দিলেও গণভোটের ‘হ্যাঁ’ সূচক রায়ের পক্ষে একটি শব্দও উচ্চারণ করে না। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আপনাদের অবস্থান পরিষ্কার করুন। আপনারা ‘হ্যাঁ’ না ‘না’-এর পক্ষে, সেটিই আপনাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ তাদের যোগ্য জবাব দেবে।
পুরান ঢাকার রাজনীতিতে অতীতে ঘটে যাওয়া সহিংসতা ও জুলুমের কথা স্মরণ করে ডাকসু ভিপি বলেন, “আমরা এই পুরান ঢাকায় পাথর দিয়ে মানুষ মারতে দেখেছি। বছরের পর বছর মানুষ এখানে জুলুমের শিকার হয়েছে। এই অরাজকতা বন্ধ করে ইনসাফ কায়েম করতে হলে এনায়েত উল্লাহ ভাইয়ের মতো যোগ্য প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে।” তিনি দাবি করেন, জামায়াত মনোনীত প্রার্থীই পারবেন এই আসনের মানুষের হারানো অধিকার ও ন্যায়বিচার ফিরিয়ে দিতে।
দেশের তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান নিয়ে জামায়াত আমিরের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে সাদিক কায়েম বলেন, “আমাদের আমির ঘোষণা দিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে ৪০ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে দেশে যে ২৫ লাখ বেকার রয়েছেন, তাদের কাউকেই আর বেকার থাকতে হবে না। আপনারা জামায়াতের ওপর ভরসা রাখুন।”
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, গত ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর দেশজুড়ে সব দলের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রধান প্রধান দলগুলোর শীর্ষ নেতারা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে। আইন অনুযায়ী, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রার্থীরা তাদের প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা-৭ আসনের এই জনসভায় জামায়াত ও শিবিরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ১০ দলীয় জোটের স্থানীয় পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

