বাংলাদেশ নেই, পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়েও ছিল পাহাড়সম অনিশ্চয়তা। তবে সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আর এই ঘোষিত স্কোয়াড প্রকাশের পরপরই ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ২৩ বছর বয়সী এক তরুণ তুর্কি—খাজা নাফি। এমনকি খোদ ভারতীয় স্পিন লিজেন্ড রবিচন্দ্রন অশ্বিনও এই ডানহাতি ব্যাটারের প্রতিভা নিয়ে বাজি ধরেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দল শেয়ার করে একটি বিশেষ পোস্ট করেছেন অশ্বিন। সেখানে তিনি সাফ জানিয়েছেন, এবারের বিশ্বকাপে আলাদা করে নজর রাখতে হবে খাজা নাফির ওপর। অশ্বিন লিখেছেন, “এই কেএম নাফি বিশ্বকাপে নজর রাখার মতো একজন ক্রিকেটার।” একজন ভারতীয় কিংবদন্তির মুখে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের উদীয়মান তারকার এমন প্রশংসা ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
২৩ বছর বয়সী খাজা নাফি মূলত একজন ‘পাওয়ার হিটার’, যিনি মিডল অর্ডারে দ্রুত রান তুলতে পারদর্শী। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় তার। মাত্র ১৫ বলে ২৬ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলে নির্বাচকদের নজরে আসেন তিনি। এছাড়া পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে ১২ ম্যাচে ১৩০ স্ট্রাইক রেটে ২৩৪ রান করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে দুটি নজরকাড়া হাফসেঞ্চুরি।
নাফি যে কতটা বিধ্বংসী হতে পারেন, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ছিল হংকং সিক্সেস ২০২৫ টুর্নামেন্ট। পাকিস্তান শাহিনসের হয়ে ৫ ম্যাচে ২৮৪.৯০ স্ট্রাইক রেটে ১৫১ রান করে তিনি ছিলেন আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তার ব্যাটে ভর করেই কুয়েতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তান শাহিনস।
স্কোয়াডে নাফিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে পাকিস্তানের সাদা বলের কোচ মাইক হেসন জানান, দলের কৌশলগত কারণেই তাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। হেসন বলেন, “উইকেটকিপিংয়ের বাড়তি চাপের কারণে আমরা সাহিবজাদা ফারহানকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইনি। নাফি কেবল মাঝখানের ওভারগুলোতে পাওয়ার হিটিংয়ে দক্ষ নন, বরং প্রয়োজনে গ্লাভস হাতে উইকেটকিপিংয়ের বিকল্প হিসেবেও সার্ভিস দিতে পারবেন।”
ফখর জামান, সাহিবজাদা ফারহান, খাজা নাফি, বাবর আজম, সালমান আলি আঘা, আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, মোহাম্মদ নেওয়াজ, নাসিম শাহ, সাইম আইয়ুব, শাদাব খান, শাহিন শাহ আফ্রিদি, উসমান খান ও উসমান তারিক।
আইসিসি ও পিসিবি’র মধ্যকার প্রশাসনিক টানাপোড়েন থাকলেও, মাঠের ক্রিকেটে পাকিস্তান যে এবার বড় চমক নিয়ে আসছে, খাজা নাফির অন্তর্ভুক্তি তারই আভাস দিচ্ছে। লঙ্কান কন্ডিশনে নাফির ঝোড়ো ব্যাটিং পাকিস্তানের জন্য ট্রাম্পকার্ড হয়ে উঠতে পারে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

