বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ২০২৬ আসরের শিরোপা নির্ধারণী মেগা ফাইনালে আজ মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম দেখল এক অনন্য ব্যক্তিগত কীর্তি। রাজশাহী রয়্যালসের তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের টর্নেডো সেঞ্চুরিতে ভর করে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করিয়েছে রাজশাহী।
ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে থাকা তানজিদ আজ কেবল দলকে বড় পুঁজিই দেননি, বরং নাম লিখিয়েছেন রেকর্ডের পাতায়। বিপিএলের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে তিনটি সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করলেন এই বাঁহাতি। এর আগে ফাইনালে সেঞ্চুরির নজির ছিল কেবল ক্রিস গেইল এবং তামিম ইকবালের। আজ সেই এলিট ক্লাবে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে প্রবেশ করলেন তানজিদ।
টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। তবে তার সেই সিদ্ধান্তকে শুরুতেই ভুল প্রমাণ করেন রাজশাহীর দুই ওপেনার তানজিদ তামিম ও সাহিবজাদা ফারহান। উদ্বোধনী জুটিতে তারা ৮৩ রান যোগ করে বড় স্কোরের ভিত্তি গড়ে দেন। ফারহান ৩০ বলে ৩০ রান করে ফিরে গেলেও তানজিদ অন্যপ্রান্ত আগলে রেখে চড়াও হন বোলারদের ওপর।
দ্বিতীয় উইকেটে নিউজিল্যান্ডের তারকা কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে রানের গতি সচল রাখেন তানজিদ। উইলিয়ামসন ১৫ বলে ২৪ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস খেলে শরিফুল ইসলামের শিকার হয়ে বিদায় নিলেও তানজিদ তার পথে অবিচল ছিলেন। মাত্র ৬২ বলে ১০০ রানের অপরাজিত এক কাব্যিক ইনিংস খেলেন তিনি, যা সাজানো ছিল ৬টি চার ও ৭টি বিশাল ছক্কায়। এটি চলতি বিপিএলের চতুর্থ সেঞ্চুরি।
শেষদিকে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১১ রান করে আউট হলেও জিমি নিশামের অপরাজিত ৭ রানের ছোট ক্যামিওতে ১৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় রাজশাহী। ফলে বিপিএলের রাজমুকুট জিততে হলে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে করতে হবে ১৭৫ রান।
চট্টগ্রামের পক্ষে বল হাতে শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ দুটি করে উইকেট শিকার করলেও রান আটকানোর ক্ষেত্রে খুব একটা সফল হতে পারেননি। এখন দেখার বিষয়, মিরপুরের মন্থর উইকেটে এই বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে চট্টগ্রাম তাদের প্রথম শিরোপা ঘরে তুলতে পারে কি না, নাকি তানজিদের রেকর্ডগড়া ইনিংসটিই রাজশাহীকে চ্যাম্পিয়ন করে।

