তীব্র শীত আর ভোরের কুয়াশা উপেক্ষা করে রূপগঞ্জের গাউসিয়া এলাকায় তখন মানুষের জনসমুদ্র। প্রায় ১৫ বছর পর দেশের মাটিতে এমন নির্বাচনী আমেজ দেখে আবেগাপ্লুত খোদ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পেরিয়ে শুক্রবার ভোরের আলো ফোটার ঠিক আগে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের সীমান্তে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি উচ্চারণ করলেন আগামীর বাংলাদেশের মূলমন্ত্র- ‘সঠিক ব্যক্তি নির্বাচন’।
আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথম ধাপের সাত জেলা সফরের শেষ জনসভা ছিল এটি। দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টার ম্যারাথন প্রচারণা শেষে ক্লান্ত শরীরেও তারেক রহমানের কণ্ঠে ছিল তেজ। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে সরাসরি বলেন, “দেশকে যদি প্রকৃত অর্থে নিরাপদ করতে হয়, তবে আপনার প্রথম কাজ হলো সঠিক ব্যক্তিকে নির্বাচন করা। জনগণের ভোটের অধিকার আর কথা বলার অধিকারই হবে রাষ্ট্র মেরামতের প্রথম ধাপ।”
বিগত দেড় দশকের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, “আপনারা কেন এই শেষ রাতেও জেগে আছেন? আপনাদের সবার চোখে-মুখে আমি একটিই চাওয়া দেখতে পাচ্ছি—পরিবর্তন। বাংলাদেশের মানুষ এমন এক দেশ চায় যেখানে তারা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারবে, মা-বোনেরা নির্ভয়ে রাস্তায় চলতে পারবে এবং কৃষক তার ফসলের নায্য মূল্য পাবে।”
তারেক রহমান তার বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ হাজার বছর ধরে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দেশ। আমরা আগামীতেও সেই সম্প্রীতি ধরে রাখতে চাই। কোনো বিভেদ নয়, বরং ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্রকে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”
নির্বাচনী এই সফরে তিনি বিএনপির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন রূপরেখার অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষি কার্ড’ এর ধারণা পুনরায় ব্যাখ্যা করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় গেলে মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে এবং কৃষকদের সার ও ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগ কার্যকর করা হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। ভোটের দিন সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে। ফজরের নামাজ পড়েই আপনাদের পাহারায় থাকতে হবে যাতে কেউ জনগণের রায় ছিনিয়ে নিতে না পারে।”
ভোর ৪টার কিছু পরে দেওয়া এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান তার প্রথম দিনের ঝটিকা সফর শেষ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশের কোনো জনসভায় সরাসরি তাকে কাছে পেয়ে রূপগঞ্জ-আড়াইহাজারের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। এখন কেবল ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের দিনের অপেক্ষা।

