এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ জাপানের রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। মাত্র তিন মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাচি দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ভেঙে দিয়েছেন। এর ফলে দেশটিতে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) টোকিওতে জাপানি সংসদের স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার রাজকীয় ডিক্রি পাঠ করেন। নিয়ম অনুযায়ী, পার্লামেন্টের ৪৬৫টি আসনের প্রার্থীরা এখন থেকে পরবর্তী ১২ দিন নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাবেন। তাকাচির এই সাহসী পদক্ষেপ জাপানের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত বছরের অক্টোবরে জাপানের শাসনভার গ্রহণ করেন সানাই তাকাচি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার মেয়াদ ১০০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই গত সোমবার তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তিনি জনগণের নতুন ম্যান্ডেট বা জনসমর্থন যাচাই করতে চান। সেই লক্ষ্যেই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই সংসদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
মজার বিষয় হলো, জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণে কিছুটা জনসমর্থন হারালেও, ব্যক্তি তাকাচির জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, দেশটির প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ তার নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নিজের এই ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে দলের হারানো গৌরব ও সংসদের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করতে চাইছেন তিনি।
বর্তমানে জাপানের পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন এলডিপি এবং প্রধান বিরোধী দল ‘জাপান ইনোভেশন পার্টি’র (জেআইপি) মধ্যে আসনের ব্যবধান খুবই সামান্য। এই অল্প ব্যবধানের কারণে নীতি নির্ধারণী অনেক সিদ্ধান্তে সরকারকে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। আগাম নির্বাচনের মাধ্যমে একটি বড় ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে স্থিতিশীল সরকার গঠন করাই এখন তাকাচির প্রধান লক্ষ্য।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংস্কার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো এবারের নির্বাচনে মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে। তাকাচি যদি এই জুয়ায় জিতে যান, তবে জাপানের ইতিহাসে তিনি অন্যতম শক্তিশালী নারী নেত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করবেন। ৮ ফেব্রুয়ারির ভোটই বলে দেবে জাপানের জনগণ তাদের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর ওপর কতটা ভরসা রাখছেন।

