গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলিকরণ বাহিনীতে তুরস্ক ও কাতারের সেনাদের বিরোধিতা করলেন নেতানিয়াহু। এসইও কিওয়ার্ড: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, গাজা আন্তর্জাতিক বাহিনী, তুরস্ক কাতার সেনা, ডোনাল্ড ট্রাম্প বোর্ড অব পিস, মেজর জেনারেল জাসপার জেফার্স, গাজা যুদ্ধবিরতি ২০২৬।
জেরুজালেম: যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। গাজায় শান্তি বজায় রাখতে গঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলিকরণ বাহিনীতে (ISF) তুরস্ক ও কাতারের সেনাদের অন্তর্ভুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে দেওয়া এক উত্তপ্ত ভাষণে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেন, “গাজা উপত্যকায় তুরস্ক অথবা কাতারের কোনো সেনার স্থান হবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র করা এবং গাজাকে একটি অসামরিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলাই তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতার জন্য ‘বোর্ড অব পিস’ (Board of Peace) এবং একটি বিশেষ ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এই বোর্ডে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং কাতারি কূটনীতিক আলী আল-থাওয়াদির মতো ব্যক্তিত্বদের রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
নেতানিয়াহু এই নিয়োগের বিরোধিতা করে বলেন, “পরামর্শক কমিটিতে কে থাকবে তা নিয়ে আমাদের বন্ধুদের (যুক্তরাষ্ট্র) সঙ্গে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে। তবে আমরা নিশ্চিত করতে চাই, তুরস্ক বা কাতারের কোনো সেনার পা যেন গাজায় না পড়ে।” তিনি হামাসকে আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোর গাজা শাসনের কোনো প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব খাটানোর বিরোধী।
গাজা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলিকরণ বাহিনীর (ISF) মূল লক্ষ্য: নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: হামাসের পরিবর্তে গাজার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা। পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ: একটি নতুন এবং অরাজনৈতিক পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। মানবিক সহায়তা: গাজায় মানবিক ত্রাণ বিতরণ এবং পুনর্গঠন কাজের তদারকি করা। নিরস্ত্রীকরণ: গাজা থেকে সকল প্রকার ভারী ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আন্তর্জাতিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জাসপার জেফার্সকে (Major General Jasper Jeffers) নিয়োগ দিয়েছেন। জেফার্স এর আগে ইরাক, আফগানিস্তান এবং সিরিয়ায় সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সম্প্রতি ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি তদারকিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চাপে এবং হামাস-ঘনিষ্ঠ দেশগুলোর প্রভাব কমাতে এই হার্ডলাইন অবস্থান নিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাহিনীতে কোন কোন দেশ সেনা পাঠাবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইন্দোনেশিয়াসহ আরও কিছু দেশ সেনা পাঠানোর ব্যাপারে প্রাথমিক আগ্রহ দেখালেও চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে আলোচনা চলছে।

