অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বিশ্বনেতাদের হুঁশিয়ারির মধ্যেই ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আটক ব্যক্তিদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে খামেনি প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুমকি সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে দেশজুড়ে চলমান ডিজিটাল যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা বা ইন্টারনেট ‘ব্ল্যাকআউট’ এখনো কার্যকর রয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বিচারিক কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “যাদের অপরাধ প্রমাণিত হবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অযৌক্তিক শিথিলতা হবে ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।”
বিক্ষোভের নেপথ্যে অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রা বিপর্যয়কে দায়ী করা হলেও ইরান সরকার একে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠকের পর বিচার বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, খুনি ও তথাকথিত ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিভ্রান্ত হয়ে মিছিলে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের প্রতি কিছুটা ‘ইসলামি সহানুভূতি’ দেখানোর ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক ধস: গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের মূলে রয়েছে তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও রিয়ালের রেকর্ড অবমূল্যায়ন। বর্তমানে ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার রিয়ালে।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: ৮ জানুয়ারি থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মাঝে কয়েক ঘণ্টার জন্য সীমিত সংযোগ চালু হলেও বর্তমানে অধিকাংশ নাগরিক বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন।
হতাহতের সংখ্যা: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হওয়ার আশঙ্কা করলেও সরকারিভাবে এখনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।
ট্রাম্পের অবস্থান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানিয়ে ‘সাহায্য আসছে’ বলে ঘোষণা করেছিলেন। এছাড়া আন্দোলনকারীদের হত্যা করা হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এই অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অর্থের বিনিময়ে বিক্ষোভ উসকে দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে হত্যার মাধ্যমে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চাইছে।
অন্যদিকে, লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও নেটব্লকস জানিয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ করার মাধ্যমে মূলত নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের চিত্র গোপন করতে চাইছে ইরান সরকার। ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে কিছু ভিডিও বাইরে এলেও ডিজিটাল যোগাযোগের অভাবে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
তেহরানের রাজপথে বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর টহল রয়েছে। বড় ধরনের বিক্ষোভ না থাকলেও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিচারের মাধ্যমে কঠোর সাজার ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলতে পারে।
