একজন তার অভিনয়ের অসামান্য দক্ষতায় দেশ-বিদেশের সীমানা ছাড়িয়ে হয়েছেন কিংবদন্তি, অন্যজন গ্ল্যামার আর সাহসিকতার মিশেলে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অঘোষিত সম্রাজ্ঞী। চঞ্চল চৌধুরী ও পরীমণি—এই দুই তারকা যখন একই ফ্রেমে বন্দি হন, তখন ভক্তদের আগ্রহের পারদ যে কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। সম্প্রতি একটি জমকালো অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে পরীমণিকে নিয়ে নিজের মনের গহীনে থাকা মুগ্ধতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন চঞ্চল চৌধুরী।
পরীর অভিনয়ের চেয়েও তার পর্দার উপস্থিতিকে বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন চঞ্চল। পরীর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “পর্দায় পরীর যে উপস্থিতি বা অ্যাপিয়ারেন্স, দর্শক তো তার চেহারার মায়ায় প্রথম দেখাতেই মুগ্ধ হয়ে যায়। এটি একজন অভিনেত্রীর জন্য অনেক বড় ইতিবাচক দিক। তবে আমি মনে করি, কেবল সৌন্দর্য নয়, পরীর মধ্যে যে গভীর অভিনয় দক্ষতা আছে, সেটাকেও নির্মাতাদের আরও সুনিপুণভাবে কাজে লাগানো উচিত। পরীমণিকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার অনেক সুযোগ এখনো রয়ে গেছে।”
আলোচনা কেবল প্রশংসাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং পরীমণি যখন তাদের পর্দার পেছনের কিছু ব্যক্তিগত খুনসুটির কথা শেয়ার করেন, তখন অনুষ্ঠানস্থলে হাসির রোল পড়ে যায়। লাজুক হাসিতে পরী বলেন, “চঞ্চল ভাইয়া পাশে থাকলে আমি আসলে কী বলব, তা মাঝেমধ্যে ভুলেই যাই। তিনি বড় মাপের অভিনেতা তো বটেই, মানুষ হিসেবেও দারুণ রসবোধসম্পন্ন।”
এ সময় লিফটের এক মজার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে পরী বলেন, “আজ অনুষ্ঠানস্থলে আসার সময় লিফটে আমরা হাসাহাসি করছিলাম। আমি মজা করে ভাইয়াকে বলছিলাম—ভাইয়া, একটা যুগ পার হয়ে গেল আমাদের পরিচয়, অথচ যখন আমরা একসঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছি, তখন আমরা বুড়ো হয়ে গেছি!” পরীর এমন রসিকতার উত্তরে চঞ্চল চৌধুরীও দমে যাননি। তিনিও হাসতে হাসতে নিজেকে ‘বুড়ো’ হিসেবে মেনে নিয়ে পরীর টিনএজ বয়সের স্মৃতি টেনে আনেন।
পরীমণির কণ্ঠে অবশ্য কিছুটা আক্ষেপের সুরও শোনা গেল। তিনি বলেন, “আমাদের সবারই টিনএজ সময়টা পেছনে ফেলে আসা হয়েছে। মনের ভেতরে হয়তো এখনো সেই কৈশোরের চপলতা আছে, কিন্তু বয়স তো আর থেমে থাকে না। হয়তো এই পরিণত বয়সেই আমাদের একসঙ্গে কাজ হওয়ার কথা ছিল বিধাতা লিখে রেখেছিলেন। আমি চাই আমাদের এই নতুন রসায়ন যেন দর্শকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী দাগ কাটে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চঞ্চল ও পরীর এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং পর্দার বাইরের চমৎকার রসায়ন তাদের আসন্ন প্রজেক্টের জন্য বড় একটি তুরুপের তাস হতে পারে। গ্ল্যামার আর মেধার এই নতুন মেলবন্ধন দেখার জন্য দুই বাংলার সিনেমাপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

