আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হতেই রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে যারা একাত্তরে বাংলাদেশের অস্তিত্ব স্বীকার করেনি, তারাই এখন নতুন করে ‘দুষ্টামি’ শুরু করেছে বলে কড়া মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার মতে, একটি বিশেষ মহল ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সুপরিকল্পিতভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতেই মির্জা ফখরুল দেশের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বিএনপি এখন অপশক্তির সবচেয়ে বড় শত্রু। যারা অতীতে এ দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, আমাদের মা-বোনদের হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল, তারা আজ বড় বড় কথা বলছে। আমরা সেই রক্তাক্ত ইতিহাস ভুলে যাইনি। তাদের বলব—রাজনীতি যদি করতেই হয়, তবে সোজা পথে করুন। মানুষকে বিভ্রান্ত করে কিংবা ধর্মের দোহাই দিয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা খোঁজা বন্ধ করুন।”
নির্বাচন নিয়ে সংশয়বাদীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আর মাত্র ২৩ দিন পর ভোট। অথচ এখনো অনেকে বলছেন নির্বাচন হতে দেবেন না। ভেতরে খবর নিয়ে দেখুন, তাদের তিন শতাংশ ভোট পাওয়ারও ক্ষমতা নেই। তারা ধোঁয়াশা তৈরি করে গণতান্ত্রিক যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। আমরা জনগণের ভোটে বিশ্বাসী। জনগণ যদি আমাদের প্রত্যাখ্যান করে, আমরা সানন্দে বিরোধী দলে বসব। কিন্তু আগেভাগে গলাবাজি কেন?”
মির্জা ফখরুল মনে করেন, এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়; বরং এটি বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণের পরীক্ষা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই দেশ কি একটি উদার গণতান্ত্রিক (লিবারেল ডেমোক্রেসি) রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকবে, নাকি উগ্রবাদী রাষ্ট্রবিরোধী চক্রের হাতে চলে যাবে—তা এই ভোটেই নির্ধারিত হবে। আমাদের অবশ্যই মানুষের কল্যাণের এবং গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে।”
দলের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অপপ্রচারের জবাব দিতে গিয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান সংবিধানে প্রথম ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ যুক্ত করেছিলেন। আমরা আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থায় বিশ্বাসী। অথচ আজ বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে যে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে। এ ধরনের মোনাফেকি ও ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে ঠকানো অন্যায়।”
তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমানের ঘোষিত ‘৩১ দফা’ সংস্কার প্রস্তাব এবং কৃষকদের জন্য ‘ফার্মারস কার্ড’ ও দুস্থদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে। তার মতে, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ধানের শীষের বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা স্পষ্ট করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন এক নতুন ও আধুনিক রাজনীতির ধারক। এই উন্নয়নমুখী রাজনীতিকে বাধাগ্রস্ত করতেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিগুলো বারবার ধর্মের নাম দিয়ে জনগণকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে।
আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান ও সেলিমা রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার শপথ নেন।

