বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন চার প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রদূতরা। বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে এই পৃথক সাক্ষাৎকারে অংশ নেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন এবং নর্ডিক অঞ্চলের তিন দেশ—সুইডেন, ডেনমার্ক ও নরওয়ের প্রতিনিধিরা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এই উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বৈঠকের পর বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও এতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং নতুন বাংলাদেশ নিয়ে তার উন্নয়ন দর্শনের প্রতি বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আজকের বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতসহ চার দেশের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।”
হুমায়ুন কবির আরও জানান, বিএনপি যদি জনগণের রায়ে আগামীতে ক্ষমতায় আসে, তবে দলের ঘোষিত ‘৩১ দফা’ রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবের ভিত্তিতে কীভাবে কূটনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কগুলো আরও জোরদার করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে নর্ডিক দেশগুলো ও রাশিয়ার সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান।
কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, সরাসরি নির্বাচন নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা জানান, রাষ্ট্রদূতরা নির্দিষ্ট কোনো পক্ষ নিয়ে কথা বলেননি। তবে তারা বিশ্বাস করেন যে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশের মানুষ একটি অর্থবহ ও স্বচ্ছ ভোটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের পর বাংলাদেশ একটি টেকসই গণতান্ত্রিক কাঠামোর দিকে ধাবিত হবে বলে রাষ্ট্রদূতরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এদিনের বৈঠকগুলোতে বিএনপির পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. মাহাদী আমিন এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হক।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েকদিন ধরেই তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের একের পর এক বৈঠক প্রমাণ করছে যে, নির্বাচনের আগে পশ্চিমা ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো বিএনপির অবস্থান এবং পরিকল্পনাকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে। বিশেষ করে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি এই কূটনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এর আগে সোমবারও তারেক রহমানের সঙ্গে একযোগে ১১ জন রাষ্ট্রদূত সাক্ষাৎ করেছিলেন। একের পর এক এই হাই-প্রোফাইল মিটিংগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন শেষে বিএনপির এই নেতার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি দৃশ্যমান। এখন দেখার বিষয়, এই কূটনৈতিক সমর্থন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে বিএনপিকে কতটা বাড়তি সুবিধা দেয়।

