সময়ের চাকা ঘুরলেও তার রূপের জাদুতে ভাটা পড়েনি এতটুকু। তিনি জয়া আহসান—দুই বাংলার রূপালি পর্দার এমন এক নাম, যার প্রতিটি আবির্ভাবই যেন নতুন কোনো গল্পের সূচনা করে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জয়া তার চিরচেনা আভিজাত্যকে ছাপিয়ে এক অন্যরকম ‘রাজকীয়’ লুকে ধরা দিয়েছেন, যা নিয়ে এখন নেটপাড়া উত্তাল।
মঙ্গলবার সকালে জয়া তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেন। সেখানে তাকে দেখা গেছে কোনো এক পুরোনো স্থাপত্য বা জমিদার বাড়ির অন্দরে। নীল রঙের সূক্ষ্ম কারুকাজ করা স্লিভলেস ব্লাউজ আর গাঢ় গোলাপি পাড়ের শাড়িতে জয়া যেন কোনো ধ্রুপদী উপন্যাসের পাতা থেকে উঠে আসা চরিত্র।
জয়ার এই লুকে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে তার পরনের ভারী গয়না। নাকের বড় নথ আর কপালের টিকলি তাকে করে তুলেছে আরও লাস্যময়ী। সাধারণ সাজে অভ্যস্ত ভক্তদের কাছে জয়ার এই জমকালো সাজ রীতিমতো এক চমক হয়ে এসেছে। আভিজাত্য আর লাবণ্যের এমন মিশেল কেবল জয়ার পক্ষেই সম্ভব—এমনটাই বলছেন তার গুণমুগ্ধরা।
ছবিগুলো পোস্ট হওয়ার পর থেকেই মন্তব্যের বন্যায় ভাসছেন অভিনেত্রী। ভক্তদের কেউ তাকে ‘চিরযৌবনা’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন, আবার কেউ বলছেন বয়স বাড়ার সাথে সাথে জয়ার ব্যক্তিত্ব যেন আরও ধারালো হচ্ছে। তবে এর মধ্যেও কিছু নেটিজেন তার চোখেমুখে বয়সের ছাপ খুঁজে পেয়েছেন, যদিও তার আবেদন আর শৈল্পিক ভঙ্গিমার কাছে সেসব যেন ম্লান।
অভিনয় জীবনের শুরু থেকেই জয়া নিজেকে ভেঙেছেন বারবার। কখনো পাশের বাড়ির সাধারণ মেয়ে, আবার কখনো পর্দার রহস্যময়ী নারী—প্রতিটি চরিত্রেই তিনি অনন্য। তবে এবারের এই ফটোশুটে কেবল সৌন্দর্য নয়, জয়ার চোখেমুখে যে বিষণ্ণ ও গম্ভীর ভাব ফুটে উঠেছে, তা মূলত তার আসন্ন সিনেমারই এক ইঙ্গিত বলে মনে করছেন অনেকে।
পর্দার জয়াকে দেখার অপেক্ষাও ফুরাচ্ছে খুব শিগগিরই। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন সিনেমা ‘ওসিডি’ (OCD)। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলোচিত নির্মাতা সৌকর্য ঘোষালের এই মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার সিনেমায় জয়া অভিনয় করেছেন ‘শ্বেতা’ নামক এক চিকিৎসকের ভূমিকায়।
সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে ট্রমা, মানসিক সংকট এবং সামাজিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে। ইতোমধ্যে সিনেমাটির ট্রেলার দর্শকদের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে শ্বেতা চরিত্রে জয়ার সেই ‘ভয়ংকর’ অথচ শক্তিশালী রূপ দেখার জন্য দুই বাংলার সিনেমাপ্রেমীরা দিন গুনছেন।
জয়া বরাবরই প্রচারের চেয়ে কাজের গুণগত মানকে বেশি প্রাধান্য দেন। তবে তার স্টাইল সেন্স এবং ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তাকে সবসময়ই খবরের শিরোনামে রাখে। বর্তমানে তিনি সিনেমাটির প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়, পর্দার ‘শ্বেতা’ হয়ে তিনি দর্শকদের মনে কতটা দাগ কাটতে পারেন।

