দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক ব্যতিক্রমী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনিক কাঠামোর রূপরেখা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করতে পারলে তারা কেবল দলীয় পরিচয়ে নয়, বরং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট’-এর বিরতিতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশেষজ্ঞ জ্ঞানকে গুরুত্ব দিতে চায় তার দল।
ডা. তাহের বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে কেবল নিজেদের দলের মধ্য থেকেই মন্ত্রী নিয়োগ করবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। আমরা বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের মধ্য থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের মন্ত্রী হিসেবে বেছে নেব। আমাদের দেশে অর্থমন্ত্রী বা স্বাস্থ্যমন্ত্রী হওয়ার মতো বিশ্বমানের দক্ষ ও অভিজ্ঞ অনেক মানুষ আছেন যারা সরাসরি রাজনীতির সাথে যুক্ত নন। আমরা তাদের সুযোগ দিতে চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জামায়াতের এই অবস্থানকে ‘টেকনোক্র্যাট-বান্ধব’ এবং ‘জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার’ গড়ার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। দলটির এই নীতি বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের প্রথাগত দলীয় রাজনীতির সংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামিটে দলটির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশলপত্র বা ‘রোডম্যাপ’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে বৈদেশিক নীতি, সামষ্টিক ও ব্যষ্টিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি এবং দুর্নীতি দমনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ডা. তাহের জানান, বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ নিরাপদ করতে জামায়াত একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়টিকেও দলটির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ডা. তাহেরের মতে, কেবল সঠিক লোকবলকে সঠিক স্থানে বসানোর মাধ্যমেই দেশের বিদ্যমান সংকটগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
নির্বাচনী প্রচারণার আধুনিকায়ন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “অনলাইন প্রচারণা বর্তমান সময়ের এক অপরিহার্য কৌশল। আমরা নির্বাচনী আইন (আরপিও) মেনেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন বিলবোর্ড ব্যবহার করে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।” তবে তিনি এ-ও স্পষ্ট করেন যে, তাদের মূল শক্তি হলো মাঠপর্যায়ের সংযোগ।
“আমাদের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি মানুষের দুয়ারে পৌঁছানো। ‘ওয়ান টু ওয়ান’ বা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছি। আমাদের কর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশা বোঝার চেষ্টা করছেন,” যোগ করেন তিনি।
এই পলিসি সামিটের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী নিজেকে একটি আধুনিক ও শাসনতান্ত্রিক দল হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন উপস্থিত পর্যবেক্ষকরা। দলের ভেতরে ও বাইরে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে প্রণীত এই পলিসিগুলো আগত নির্বাচনে তাদের ইশতেহারের মূল ভিত্তি হবে বলে জানানো হয়েছে।

