নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) অভিমুখে টানা আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। পোস্টাল ব্যালটে কারচুপি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের প্রতিবাদে আজ রোববার দিনভর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। রাতে সাময়িকভাবে কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও আগামীকাল সোমবার বেলা ১১টা থেকে পুনরায় ঘেরাও ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রোববার রাতে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘ এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তাদের উত্থাপিত তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না ছাত্র কর্মীরা। এর আগে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী আগারগাঁও এলাকায় জড়ো হতে থাকেন।
সকাল ১১টা নাগাদ ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নেতৃত্বে বিশাল মিছিল নিয়ে ইসি ভবনের দিকে অগ্রসর হন নেতাকর্মীরা। তবে পুলিশি ব্যারিকেডের মুখে তারা মূল ভবনের সামনে পৌঁছাতে না পেরে সড়কেই বসে পড়েন। এতে আগারগাঁও সংলগ্ন প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো নির্বাচনী এলাকা।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত, পোস্টাল ব্যালট বিতরণে কমিশন একটি বিশেষ রাজনৈতিক পক্ষকে সুবিধা দিচ্ছে বলে তাদের দাবি। সংগঠনটি মনে করে, এই প্রক্রিয়াটি শুরুতেই প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় পুরো নির্বাচনের নিরপেক্ষতা এখন ঝুঁকির মুখে। দ্বিতীয়ত, কমিশনের ওপর একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপ রয়েছে এবং ইসি স্বাধীনভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে। ছাত্রদলের দাবি, একটি বিশেষ দলের সরাসরি হস্তক্ষেপে ইসি এই নির্বাচন নিয়ে যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তা নজিরবিহীন ও অগণতান্ত্রিক। তাদের মতে, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও সুস্থ ছাত্র রাজনীতির ওপর বড় ধরনের আঘাত।
আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বিভিন্ন থানা থেকে আসা নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধের ফলে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়। পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই আজকের কর্মসূচি শেষ হয়।
ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা কোনো অশান্তি চাই না। আমরা চাই প্রতিটি ভোটারের অধিকার এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত হোক। কিন্তু কমিশন যদি মেরুদণ্ডহীনভাবে কাজ করে, তবে সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে আমরা কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে ছাত্রদলের এই রাজপথের সক্রিয়তা নির্বাচন কমিশনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। বিশেষ করে পোস্টাল ব্যালট ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলো সাধারণ ভোটারদের মাঝেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আগারগাঁও এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।
আগামীকালকের কর্মসূচিতে জমায়েত আরও বড় করার পরিকল্পনা করছে ছাত্রদল। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন আন্দোলনকারীদের দাবি আমলে নেয় কি না, নাকি অনড় অবস্থান বজায় রাখে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

