রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আজ সারাদিনই বিরাজ করছিল এক উত্তপ্ত ও থমথমে পরিস্থিতি। ব্যালট পেপার সংক্রান্ত অনিয়ম এবং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয় ঘেরাও করতে এসে রাজপথেই বসে পড়েন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী। দিনভর স্লোগান আর বিক্ষোভের পর অবশেষে বিকেলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলে বরফ গলতে শুরু করে।
বিকেল ঠিক ৫টায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করতে ইসি ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। এর আগে নির্বাচন ভবনের সামনে পুলিশের দেওয়া কাঁটাতারের ব্যারিকেডের মুখে দীর্ঘ সময় অবস্থান নিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
সকাল ১১টা থেকেই ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত—মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও বিভিন্ন থানা থেকে আসা সহস্রাধিক নেতাকর্মী নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন। শয়ে শয়ে নেতাকর্মী রাস্তায় বসে পড়ায় আগারগাঁও এলাকার যান চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। পথচারীদের ভোগান্তি বাড়লেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছিলেন নিজেদের দাবিতে অনড়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ইসি ভবনের সামনে মোতায়েন করা হয়েছিল অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের।
আলোচনায় বসার আগে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, “আমরা একটি জবাবদিহিমূলক নির্বাচনের পরিবেশ চাই। কিন্তু কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেখা যাচ্ছে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী এখানে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছে এবং জোরপূর্বক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করাচ্ছে। সচিবালয় থেকে ইসি—সবখানে তাদের অবাধ বিচরণ কমিশনের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও দাবি নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে: পোস্টাল ব্যালট অনিয়ম: নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে যে পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশকে চরম সংশয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব: একটি বিশেষ গোষ্ঠীর চাপে পড়ে ইসি হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, যা স্বাধীন কমিশনের পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শাবিপ্রবি বিতর্ক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে কমিশনের জারিকৃত নজিরবিহীন প্রজ্ঞাপনকে গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ছাত্রদল।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইসি ভবনের সামনের রাস্তায় দলটির নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড হয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। সভাপতির নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল ভেতরে আলোচনায় থাকলেও বাইরে রাজপথ আগলে বসে আছেন বাকিরা। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির জানান, আলোচনার টেবিলে যদি তাদের দাবিগুলোর যৌক্তিক সমাধান না আসে, তবে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও আগারগাঁও এলাকার উত্তেজনা কমেনি। সবাই এখন তাকিয়ে আছে কমিশনের ভেতরের সেই রুদ্ধশ্বাস বৈঠকের দিকে। সচিবের সঙ্গে আলোচনার পর ছাত্রদল তাদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করবে নাকি নতুন কোনো ঘোষণার দিকে হাঁটবে, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।

