বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের দুই মেরুর দুই নক্ষত্র। একজন টেনিস কোর্টে কব্জির জাদুতে বিশটি গ্র্যান্ড স্লাম জিতে অবসরে গিয়েছেন, অন্যজন ফুটবল মাঠে পায়ের জাদুতে এখনো বিশ্বকে মোহিত করে রাখছেন। রজার ফেদেরার এবং লিওনেল মেসি—মর্যাদা আর জনপ্রিয়তায় তারা একে অপরের সমান্তরাল। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, ঠিক তখনই এই ফুটবল জাদুকরকে নিয়ে মুখ খুলেছেন টেনিস সম্রাট ফেদেরার।
বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র মাস পাঁচেক বাকি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসতে যাওয়া এই মেগা ইভেন্ট নিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের উত্তেজনার শেষ নেই। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন-এর সঙ্গে এক একান্ত আলাপচারিতায় ফেদেরারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ নিয়ে। জবাবে ফেদেরার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে বলেন, “আমি বিশ্বকাপের জন্য ওকে শুভকামনা জানাই। সে তো একবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছেই, তাই এবার ওর ওপর আগের মতো বাড়তি চাপ থাকবে না। যদিও বিশ্বকাপের মঞ্চ মানেই বিশাল চাপ, তবুও আমি মুখিয়ে আছি আরেকবার ওর খেলা দেখার জন্য।”
ফুটবল এবং মেসির প্রতি নিজের মুগ্ধতা লুকাতে পারেননি ৪৪ বছর বয়সী এই সুইস কিংবদন্তি। টেনিস থেকে তিন বছর আগে অবসর নিলেও খেলার জগতের প্রতি তার পর্যবেক্ষণ এখনো প্রখর। ফেদেরার জানান, ব্যক্তিগতভাবে মেসির সঙ্গে তার মাত্র একবার দেখা হলেও তিনি মনেপ্রাণে এই আর্জেন্টাইন তারকার ভক্ত। তিনি বলেন, “ফুটবলে মেসি যা করেছে তা স্রেফ অসাধারণ। যেভাবে সে খেলাটাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং এর সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।”
২০২৬ বিশ্বকাপে ফেদেরারের দেশ সুইজারল্যান্ডও নামবে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে। নিজের দেশ এবং প্রিয় ফুটবলার—দুজনকেই গ্যালারিতে বসে সমর্থন দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ফেদেরার। তিনি আশা করেন, মেসি তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের যে রাজকীয় বিদায়টি মনে মনে আঁকছেন, ভাগ্যের লিখন যেন ঠিক তেমনই হয়।
উল্লেখ্য, এই দুই মহাতারকার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা দীর্ঘদিনের। ২০২২ সালে ফেদেরার যখন টেনিসকে বিদায় জানান, তখন মেসি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছিলেন যে ফেদেরার কেবল টেনিসের জন্য নয়, বরং যেকোনো অ্যাথলেটের জন্যই এক অনন্য উদাহরণ।
বর্তমানে টেনিস দুনিয়ায় চলছে বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। মেলবোর্ন পার্কে রজার ফেদেরারের উপস্থিতি গোটা আয়োজনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। ১৫ হাজার দর্শক ঠাসা রড লেভার অ্যারেনায় এক প্রদর্শনী ম্যাচেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানে ক্যাসপার রুডকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফেদেরার প্রমাণ করেছেন, র্যাকেট হাতে এখনো তার জাদু ফুরিয়ে যায়নি। তবে নিজের খেলা ছাপিয়ে এখন যেন মেসির ‘শেষ নাচের’ অপেক্ষায় দিন গুনছেন এই টেনিস কিংবদন্তিও।

