শীতের ঘন কুয়াশা আর বেপরোয়া গতির বলি হলো পাকিস্তানের দুই প্রদেশ। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানে পৃথক দুটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জনের বেশি মানুষ, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। মর্মান্তিক এই দুই দুর্ঘটনা পাকিস্তানজুড়ে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।
ভোরের আলো ফোটার আগেই প্রথম ট্র্যাজেডিটি ঘটে পাঞ্জাবের সারগোধা জেলায়। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা সড়কে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় একটি যাত্রীবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গালাপুর বাংলার সেতু থেকে নিচের একটি শুকনো খালে পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় ৬ শিশুসহ মোট ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯ জন।
দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ-১১২২’ জানিয়েছে, ট্রাকটিতে মোট ২৩ জন আরোহী ছিলেন। তারা সবাই ইসলামাবাদ থেকে ফয়সালাবাদে এক আত্মীয়ের জানাজায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। কুয়াশার কারণে প্রধান মহাসড়ক বন্ধ থাকায় চালক বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে গিয়ে কোট মোমিন তহসিল এলাকায় এই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। কুয়াশার তীব্রতায় খালের কিনারা বুঝতে না পারায় মুহূর্তেই ট্রাকটি উল্টে নিচে পড়ে যায়।
অন্যদিকে, বেলুচিস্তানের ওরমারা তহসিলের হুদ্দ গথ এলাকার মহাসড়কে ঘটেছে দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি। করাচি থেকে জিওয়ানিগামী একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী কোচ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। এতে এক কন্যাশিশুসহ ১০ জন নিহত এবং এক ডজনেরও বেশি যাত্রী আহত হয়েছেন। কোস্টাল হাইওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) আসলাম বাঙ্গুলজাই এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত কোচের যাত্রীরা মূলত সিন্ধু প্রদেশের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তারা জীবিকার তাগিদে শ্রমিক হিসেবে কাজের উদ্দেশ্যে জিওয়ানি যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যেই এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। আহত ও নিহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ওরমারার পিএনএস দারমান জাহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনার মিছিল যেন থামছেই না। দেশটির মহাসড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। আজকের এই পৃথক দুটি দুর্ঘটনা আবারও দেশটির ভঙ্গুর সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চালকদের অসতর্কতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
দুটি দুর্ঘটনাস্থলেই বর্তমানে পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদারকি করছেন। নিহতদের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শোকাতুর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ। জানাজায় যাওয়ার পথে স্বজন হারানোর এই বেদনা পাকিস্তানবাসীকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।

