ইরানে চলমান উত্তাল সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি আরব, ওমান এবং কাতারের সমন্বিত ও নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন বলে জানা গেছে।
গালফ অঞ্চলের এই তিনটি দেশ অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে সরাসরি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং ইরানকে পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য আরও একটি সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সম্মত করতে সক্ষম হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সৌদি আরবের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপিকে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সৌদি এই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, গত কয়েক দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের যে দামামা বাজছিল, তা নিরসনে এই তিন দেশ ‘নিদ্রাহীন রাত’ পার করেছে। তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন যে, ইরানে কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ করা হলে তা পুরো অঞ্চলে এমন এক অস্থিতিশীলতা ও ধ্বংসযজ্ঞের সূচনা করবে, যা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের স্থিতিশীলতা রক্ষা করতেই রিয়াদ, মাস্কাট ও দোহা একযোগে এই মধ্যস্থতায় নামে। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে, ইরানের ওপর সরাসরি হামলা হলে তা এই অঞ্চলে একের পর এক বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন স্বার্থকেও চরম ঝুঁকিতে ফেলবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দমনে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থানে গেলে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর খবর আসলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপ করবে।
এতে করে যুদ্ধের শঙ্কা তীব্র হয়ে ওঠে। এই আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে গত বুধবার কাতারের দোহায় অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি আল-উদেইদ থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। একই সময়ে কুয়েত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছিল।
তবে বৃহস্পতিবার সকালে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কণ্ঠে সুর পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়। তিনি জানান, ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বন্ধ করেছে বলে তিনি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য পেয়েছেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয় যে, উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে তিনি আপাতত সামরিক পদক্ষেপের পথ থেকে সরে এসেছেন। সৌদি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে একটি ‘আস্থা ও ইতিবাচক পরিবেশ’ বজায় রাখতে ইরানের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক ধরনের থমথমে অবস্থা বিরাজ করবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

