প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশ ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬.৮। শনিবার স্থানীয় সময় রাতে সংঘটিত এই ভূকম্পনে পুরো দেশ কেঁপে উঠলেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে উপকূলীয় বেশ কিছু এলাকায় ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য মিলেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে গত কয়েক দিনে দেশটিতে এটি দ্বিতীয় বড় ধরণের ভূমিকম্প।
ফিলিপাইনের সরকারি ভূমিকম্প ও অগ্নুৎপাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি’ (ফিভোলস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৮ মিনিটে এই শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলীয় দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশের সারাঙ্গানি পৌরসভার অন্তর্গত বালুত দ্বীপ থেকে ৩১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে সাগরের তলদেশে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার ছিল। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।
শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের এপিসেন্টার সাগরের তলদেশে হওয়ায় প্রাথমিকভাবে উপকূলীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সুনামির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে ফিভোলস নিশ্চিত করেছে যে, কম্পনের প্রকৃতি এবং অবস্থান বিবেচনায় বড় ধরণের কোনো সুনামির আশঙ্কা নেই। তা সত্ত্বেও সমুদ্র উপকূলের বাসিন্দাদের পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফিলিপাইনের দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও, মালুঙ্গাওন এবং কিয়াম্বা দ্বীপে বেশ কিছু কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং আসবাবপত্র পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে।
ফিলিপাইনের এই ভূমিকম্পপ্রবণ অবস্থার পেছনে এর ভৌগোলিক অবস্থানকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরের ‘আগ্নেয় মেখলা’ বা ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে ছোট-বড় ভূমিকম্প একটি নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে এই অঞ্চলে প্রায়ই অগ্নুৎপাত ও ভূকম্পন দেখা যায়। উল্লেখ্য, মাত্র ৪ দিন আগে অর্থাৎ গত ৭ জানুয়ারি দেশটিতে ৬.৭ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। পরপর দুটি শক্তিশালী কম্পনের ফলে জনমনে এক ধরণের অস্থিরতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরকারি আবহাওয়া ও ভূতাত্ত্বিক দপ্তর জানিয়েছে, মূল কম্পনের পর আরও বেশ কিছু মৃদু আফটারশক বা অনুকম্পন অনুভূত হতে পারে। তাই নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার এবং দুর্যোগকালীন সতর্কবার্তা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

