দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদী শক্তির সামনে এক কঠিন সময় ও সংঘাতময় লড়াই অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। তিনি নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, অভ্যন্তরীণ যে কোনো প্রকার মান-অভিমান বা বিভেদ ভুলে যাওয়ার এখনই সময়। রোববার দুপুরে রাজধানীর ভাসানী মিলনায়তনে জিয়া মঞ্চ আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বুলু তার বক্তব্যে দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “আগামী দিনের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইস্পাতকঠিন ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। কে মনোনয়ন পেয়েছেন আর কে পাননি, সেই হিসাব মেলানোর সময় এটি নয়। ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা অভিমান বুকে চেপে রাখলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে হবে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, দলীয় সংহতিই হবে আগামী দিনের যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মূল শক্তি।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কোনোভাবেই খাটো করে না দেখার পরামর্শ দিয়ে প্রবীণ এই নেতা বলেন, প্রতিপক্ষ অত্যন্ত কৌশলী এবং তারা নানাভাবে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে হলে এখন থেকেই তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমে আত্মনিয়োগ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, যারা এক সময় বিএনপির সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আজ বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন, তাদের একটি অংশই আজ দলের বিরুদ্ধে নেপথ্যে অবস্থান নিয়েছেন। এই ‘ছায়া শত্রুদের’ চিহ্নিত করে তাদের মোকাবিলা করা এখন সময়ের দাবি।
নির্বাচনী ব্যয় এবং অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, “এমন অনেক প্রার্থীকে দেখা যাচ্ছে যাদের বৈধ মাসিক আয় এক লাখ টাকাও নয়, অথচ তারা নির্বাচনি প্রচারণায় প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা অকাতরে ব্যয় করছেন। এই বিপুল অর্থের উৎস জনগণের কাছে অজানা নয়।” তিনি এই অর্থশক্তি এবং পেশিশক্তির বিরুদ্ধে নেতা-কর্মীদের আদর্শিক লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানান। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, বরং এটি জাতীয়তাবাদী শক্তির অস্তিত্ব প্রমাণের পরীক্ষা। আর এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার একমাত্র পথ হলো ঐক্য।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি বিশেষ বার্তা নেতা-কর্মীদের স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “তারেক রহমান আমাদের বারবার একটি মন্ত্রই দিচ্ছেন, আর তা হলো— ঐক্য, ঐক্য এবং ঐক্য; আর সবার আগে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দল ঐক্যবদ্ধ থাকতে ব্যর্থ হয়, তবে সামনে আরও ভয়াবহ বিপর্যয় বা মহাবিপদ নেমে আসতে পারে, যা মোকাবিলা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ ইকবালসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা প্রত্যেকেই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজপথে সক্রিয় থাকার এবং দলীয় নির্দেশনা মেনে চলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি এবং দেশের কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

