আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘নতুন খেলা’ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি অভিযোগ করেছেন, একটি বিশেষ মহল উসকানিমূলক প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এবং দাবি করছে যে বিএনপি নাকি আওয়ামী লীগকে ‘আশ্রয়-প্রশ্রয়’ দিচ্ছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় ‘ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মির্জা আব্বাস তার বক্তব্যে বিএনপির আদর্শিক অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “বিএনপির জন্ম হয়েছে জাতীয়তাবাদী ভিত্তির ওপর। জাতীয়তাবাদ ছাড়া বিএনপি অন্য কোনো চিন্তা করে না।” তিনি বর্তমান সময়ে কতিপয় তরুণ নেতৃত্বের উসকানিমূলক বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “কিছু ছেলেপুলে কখনও আমার বিরুদ্ধে, কখনও বিএনপির বিরুদ্ধে, আবার কখনও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে কথা বলছে। তাদের কথা শুনে মনে হয় নির্বাচন যেন শুধু ঢাকা-৮ আসনেই হচ্ছে। তারা ভাবছে মির্জা আব্বাসকে হারাতে পারলেই বিএনপিকে হারানো যাবে। কিন্তু ইনশাআল্লাহ, সারাদেশে ধানের শীষের যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনো ষড়যন্ত্র দিয়েই রোখা যাবে না।”
ব্যক্তিগত রেষারেষি পরিহার করে স্থিতিশীল রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে তিনি তার নির্বাচনী প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের স্বাগত জানাই, কিন্তু পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাধাতে আসবেন না। আমি ঝগড়া করতে চাই না; প্রয়োজনে বাসায় আসেন, চা-বিরিয়ানি খাওয়াব। তবে দেশটাকে স্থিতিশীল রাখুন। আপনি যদি জনপ্রিয় হন, তবে জনগণ আপনাকেই ভোট দেবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। পোলিং এজেন্টদের উদ্দেশ্যে তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “নির্বাচনের দিন কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি কেন্দ্র পাহারা দিয়ে যেকোনো কারচুপি প্রতিহত করতে হবে।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আওয়ামী লীগ সরকারের আচরণের নিন্দা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “দেশনেত্রীকে এক কাপড়ে বাড়িছাড়া করা হয়েছিল এবং বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ ভাগ্যের সুপরিহাস, তিনি বীরের মতো বিদায় নিয়েছেন এবং গোটা জাতি তার জন্য দোয়া করছে। অন্যদিকে শেখ হাসিনার জন্য এক নির্মম ভাগ্য অপেক্ষা করছে।” তিনি পুনরায় হুঁশিয়ারি দেন যে, যারা এখনও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে, তাদের জনগণ কঠোরভাবে প্রতিরোধ করবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। মির্জা আব্বাসের এই বক্তব্য মূলত নির্বাচনের আগে দলের তৃণমূলকে চাঙ্গা করা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের প্রচারণার পাল্টা জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনে তার প্রার্থিতা এবং সেখানকার নির্বাচনী উত্তাপ এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

