ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি আরিফিন শুভ এবং জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘নূর’ অবশেষে মুক্তির পথে। তবে চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান প্রবণতাকে অনুসরণ করে পরিচালক রায়হান রাফীর নির্মিত এই গভীর প্রেমের গল্পটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিবর্তে সরাসরি আসছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। জানা গেছে, দর্শকরা সিনেমাটি বায়োস্কোপ প্লাস প্ল্যাটফর্মে উপভোগ করতে পারবেন।
এদিকে, শনিবার সিনেমাটির অফিসিয়াল টিজার মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সিনেমাপ্রেমী এবং এই তারকা জুটির ভক্তদের মাঝে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মাত্র ৪২ সেকেন্ডের সংক্ষিপ্ত টিজারটিতেই পরিচালক রায়হান রাফী দক্ষতার সঙ্গে প্রেম এবং বিরহ—এই দুটি বিপরীত অনুভূতিরই শক্তিশালী আভাস দিয়েছেন।
‘নূর’ সিনেমার টিজারটি শুরু হয় এক গভীর বিষাদের আবহে। এখানে কেন্দ্রীয় চরিত্র শুভকে তার প্রেমিকা ঐশীকে হারানোর পর বিধ্বস্ত ও পাগলপ্রায় অবস্থায় দেখা যায়। অন্ধকারে দিশেহারা এবং আবেগিকভাবে বিপর্যস্ত শুভর কয়েকটি দৃশ্য দর্শকদের মনে এক ধরনের রহস্য ও বেদনা জাগিয়ে তোলে। তবে এই ভারাক্রান্ত দৃশ্যের পরপরই ফ্ল্যাশব্যাকে আসে শুভ ও ঐশীর গভীর ভালোবাসার রোম্যান্টিক মুহূর্তগুলো। টিজারের এই নাটকীয় বিন্যাস দর্শকদের ইঙ্গিত দেয় যে, ‘নূর’ কেবল একটি প্রেমকাহিনী নয়, বরং এটি প্রেম এবং বিচ্ছেদের মাধ্যমে এক তীব্র মানবিক সংকটকে তুলে ধরবে। শুভ এবং ঐশীর রসায়ন টিজারের রোম্যান্টিক অংশে বিশেষ দ্যুতি ছড়িয়েছে, যা দর্শকদের তাদের অতীতের অ্যাকশন ঘরানার সিনেমাগুলো থেকে এক ভিন্ন মেজাজের গল্পের প্রতিশ্রুতি দেয়।
আরিফিন শুভ এবং জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীর জুটি বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে ইতোমধ্যেই সুপরিচিত। ‘মিশন এক্সট্রিম’, ‘মিশন এক্সট্রিম ২’ এবং ‘ব্ল্যাক ওয়ার’-এর মতো সফল অ্যাকশন থ্রিলার ঘরানার সিনেমার পর ‘নূর’ হলো এই জুটির তৃতীয় সিনেমা। তাদের আগের সিনেমাগুলো যেখানে ছিল তীব্র অ্যাকশন এবং গোয়েন্দা তৎপরতাভিত্তিক, সেখানে ‘নূর’ পুরোপুরি একটি আবেগঘন প্রেম ও বিচ্ছেদের গল্প নিয়ে আসছে। এই ঘরানার পরিবর্তন দর্শকদের কাছে শুভ-ঐশীর অভিনয় ক্ষমতার অন্য একটি দিক উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিচালক রায়হান রাফী বর্তমান ঢালিউডে অন্যতম সফল এবং ব্যস্ত নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। তার নির্মাণশৈলী সব সময়ই দর্শকদের মধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি করে। ‘নূর’ নিয়েও দর্শক মহলে একই ধরনের প্রত্যাশা রয়েছে যে, এই সিনেমাটি গতানুগতিক প্রেমের গল্প থেকে বেরিয়ে এসে এক ভিন্ন মেজাজের আখ্যান তুলে ধরবে।
জানা যায়, সিনেমাটির নির্মাণ কাজ প্রায় তিন বছর আগেই শেষ হয়েছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না দিয়ে সরাসরি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আসার সিদ্ধান্ত বর্তমান চলচ্চিত্র শিল্পের বাণিজ্যিক কৌশলের একটি প্রতিফলন। মহামারীর পর থেকে বিশ্বজুড়েই বড় বাজেটের সিনেমাগুলো স্থানীয় দর্শকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মকে বেছে নিচ্ছে। ‘নূর’ বায়োস্কোপ প্লাসে মুক্তি পাওয়ায় দেশের বাইরে অবস্থানরত শুভ-ঐশী ভক্তরাও এটি সহজে দেখতে পাবেন। এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সিনেমার মুক্তি নিশ্চিত করল, তেমনি দেশের ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর গুরুত্বকেও আরও বাড়িয়ে দিল।
টিজারের অল্প সময়ের ঝলকেই ‘নূর’ যে রোম্যান্স, বিচ্ছেদ এবং রহস্যের এক মিশ্র অনুভূতির সঞ্চার করেছে, তা এখন দর্শকদের মধ্যে সিনেমাটির পূর্ণাঙ্গ মুক্তির জন্য গভীর আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। শুভ এবং ঐশীর এই নতুন এবং আবেগপূর্ণ অবতার কেমন সাড়া ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

