রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের আবহ ও থমথমে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের প্রথম জানাজা। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বাদ জোহর দুপুর ২টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই শোকাবহ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গত বুধবার রাতে আকস্মিক এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিষণ্ণতা বিরাজ করছিল, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে নয়াপল্টনের বিশাল জমায়েতে।
জানাজার নামাজে ইমামতি করেন স্থানীয় মাওলানা এবং এতে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার কর্মী অংশ নেন। উপস্থিত নেতাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রবিন এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর।
এছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসিন আলীসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জানাজা শুরুর আগে প্রিয় সহযোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানাতে নয়াপল্টন এলাকায় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নেতাকর্মীদের অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু, আর মুখে ছিল এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি।
আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের মরদেহের ওপর দলীয় পতাকা দিয়ে সম্মান জানানো হয়। জানাজা শেষে তার মরদেহবাহী গাড়িটি কিছুক্ষণের জন্য কার্যালয়ের সামনে রাখা হয়, যেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নয়াপল্টনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ তার বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সেখান থেকে কাওরান বাজার এলাকায় বাদ আসর দ্বিতীয় দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে দাফন করা হবে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ইতিমধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দল আগামী শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা যায়, গত বুধবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের তেজতুরি বাজার এলাকায় এক নৃশংস হামলার শিকার হন মুছাব্বির। স্টার কাবাবের পাশের গলিতে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সিসিটিভি ফুটেজে মোটরসাইকেলে আসা আততায়ীদের দৃশ্য দেখা গেলেও তাদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা জানিয়েছেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে একজন রাজনৈতিক নেতার এমন মৃত্যু সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে।

