ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ঘিরে বর্তমান মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে কোনো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নেই এবং অনেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) নিরপেক্ষ থাকার পরিবর্তে দলীয় স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
ডা. তাহের অভিযোগ করে বলেন, “মাঠ প্রশাসনে বর্তমানে এমন অনেক ডিসি ও এসপি কর্মরত আছেন যারা বিগত আমলের দলীয় মানসিকতা বহন করছেন। তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার পরিবর্তে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত। আমরা কমিশনকে স্পষ্টভাবে বলেছি, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এসব বিতর্কিত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে বদলি করতে হবে।” জামায়াতের পক্ষ থেকে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রয়োজনে ‘লটারি পদ্ধতি’ অনুসরণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
প্রার্থীতা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় দ্বিমুখী আচরণের শিকার হওয়ার দাবি করে জামায়াত নেতা বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি, বিএনপির ১২-১৩ জন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ আমাদের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে একই আইনে ভিন্ন ও নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”
বৈঠকে ডা. তাহের নিরাপত্তার বিষয়ে চরম বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনী মাঠে কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে অনেক বেশি প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে, আবার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের কোনো নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না। আমরা সরকারের কাছে সবার জন্য সমান নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছি।” এছাড়া একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ভোটারদের কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে বলে তিনি জানান।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন গুঞ্জন প্রসঙ্গে ডা. তাহের স্পষ্ট করেন যে, ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বা ‘ফরমাল’ বৈঠক হয়নি। তিনি বলেন, “আমিরে জামায়াত যখন অসুস্থ ছিলেন, তখন ভারতীয় দূতাবাস সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিল এবং বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিল। আমরা তাদের সেই অনুরোধ রেখেছি। এর বাইরে ভারতের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বৈঠক হয়নি।” একইভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, “তারেক রহমানের সঙ্গে আমাদের শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে, কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সমঝোতার বৈঠক হয়নি।”
নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে দেশ গভীর অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলে সতর্ক করেন জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল অতীতে সাজানো নির্বাচনের ভুল করে এখন রাজনৈতিকভাবে নির্বাসিত। বর্তমান কমিশনকেও সেই ইতিহাস মনে রাখতে হবে। আমরা চাই সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি গ্রহণযোগ্য ভোট।”
বৈঠকে ডা. তাহেরের নেতৃত্বে জামায়াতের ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল। কমিশন তাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন কতটা ঘটে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

