২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শুরুর আগেই বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ভারতের অভ্যন্তরেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, যদি কোনো রাজনৈতিক মতভেদ থাকে, তবে ভারত সরকারের উচিত বাংলাদেশ সরকারের সাথে মোকাবিলা করা, একজন সাধারণ ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার ধ্বংস করা নয়। গতকাল মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর দুবাইতে অনুষ্ঠিত নিলামে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে কিনে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির অজুহাত তুলে ভারতের কিছু রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মুস্তাফিজের অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কেকেআর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় মুস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য।
ব্যক্তির দায় নয়: ওমর আবদুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, “মুস্তাফিজুর রহমানের দোষ কী? একজন খেলোয়াড়কে বাদ দিলেই কি প্রতিবেশী দেশের পরিস্থিতির উন্নতি হবে?” ঐতিহাসিক সুসম্পর্ক: তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সাথে ভারতের সম্পর্ক সব সময় ভালো ছিল এবং বাংলাদেশ কখনোই ভারতে সন্ত্রাসবাদ ছড়ায়নি।
খেলাধুলা ও রাজনীতির পৃথকীকরণ: তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কূটনৈতিক লড়াই সরকারের স্তরে হওয়া উচিত, এর প্রভাব খেলার মাঠে আসা অনুচিত। মুস্তাফিজুর রহমানকে এভাবে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং সরকারের নীতিনির্ধারকরা এই সিদ্ধান্তকে ‘অপমানজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার কয়েকটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে:
আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ: বাংলাদেশে আইপিএলের সব ধরনের প্রচার ও সরাসরি সম্প্রচার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বকাপ বর্জন ও ভেন্যু পরিবর্তন: বিসিবি ইতিমধ্যেই আইসিসিকে জানিয়েছে যে, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো খেলতে যাবে না। ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভারতের বিরোধী দলীয় নেতা শশী থারুরসহ আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এই ঘটনার সমালোচনা করে বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ক্রিকেটীয় সম্পর্কে এই ঘটনা একটি বড় ক্ষত তৈরি করবে। বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি একটি বিশেষ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত, তবে এর ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে আইসিসি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

