ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ বুধবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে এই আলোচনা শুরু হয়। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে জামায়াতের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এই বৈঠকে অংশ নিয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের ফুল কমিশন এই সংলাপে উপস্থিত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছে। ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের সঙ্গে প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও বিশেষজ্ঞবৃন্দ। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে দীর্ঘ ১৬ বছর পর মূলধারার রাজনীতিতে জামায়াতের আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
বৈঠকের মূল এজেন্ডা হিসেবে উঠে এসেছে নির্বাচনী পরিবেশ উন্নয়ন এবং প্রশাসনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়টি। জামায়াতের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে দাবি করা হয়েছে যে, নির্বাচনের জন্য এখনো পুরোপুরি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি এবং প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এখনো একটি বিশেষ মহলের হয়ে কাজ করছেন। আজকের বৈঠকে এই উদ্বেগের পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যবস্থায় ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ (Proportional Representation – PR) পদ্ধতির অন্তর্ভুক্তি এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার মতো কৌশলগত বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাবনা দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া আসন্ন গণভোট ও নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা চলছে।
এর আগে গত সোমবার দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছিল। জামায়াতের দাবি, জুলাই বিপ্লবের শহিদদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য। আজকের বৈঠকে তারা কমিশনের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী রোডম্যাপ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য বিশেষ তাগিদ দিচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এই ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবে জামায়াতের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শুনছেন। কমিশন চায় একটি সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি করতে, যেখানে সব দলের সমান অংশগ্রহণ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হবে। জামায়াতের মতো প্রধান একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রস্তাবনাগুলো আগামী দিনের নির্বাচনী নীতিমালা প্রণয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করছে কমিশন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই ইসির সঙ্গে জামায়াতের প্রথম আনুষ্ঠানিক বড় ধরনের সংলাপ। এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই আগামী সংসদ নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

