আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল বা প্রতীকের মোহে অন্ধ না হয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, সততা ও সামাজিক অবদান বিবেচনা করে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) সংসদীয় আসনের ‘চেয়ার’ প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা ওয়াহেদ মুরাদ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত এই প্রার্থী বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গতানুগতিক ধারার রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। তারা এখন আর নিছক প্রতীকের অনুসারী হতে আগ্রহী নয়; বরং সংসদীয় আসনে এমন একজন প্রতিনিধি চায় যিনি সুশিক্ষিত, মার্জিত এবং জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থাকবেন। মাওলানা ওয়াহেদ মুরাদ জোর দিয়ে বলেন, “দেশের সচেতন ভোটাররা এবার অতীতের পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনে মুখিয়ে আছে।”
বৃহত্তর সুন্নী জোট সমর্থিত এই প্রার্থী বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দেশের কিছু স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে সহিংসতা, লুণ্ঠিত অস্ত্রের ব্যবহার ও অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা একটি উৎসবমুখর নির্বাচনের পথে প্রধান অন্তরায়। তিনি অবিলম্বে লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার অনুরোধ জানান। একইসঙ্গে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ ফিরিয়ে আনার দাবি তোলেন।
নিজের প্রার্থিতার যৌক্তিকতা তুলে ধরে মাওলানা ওয়াহেদ মুরাদ বলেন, “আপনারা চট্টগ্রাম-৯ আসনের সকল প্রার্থীদের তুলনামূলক যোগ্যতা বিবেচনা করে দেখুন। আমার পারিবারিক ঐতিহ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার ইতিহাস ভোটারদের সামনে স্পষ্ট।” তিনি উল্লেখ করেন যে, তার মরহুম পিতা একজন সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের সেবা করে গেছেন এবং তিনি নিজেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দীর্ঘ সময় ধরে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ইসিকে আরও সাহসী ও দায়িত্বশীল হতে হবে। যদিও তার নিজস্ব নির্বাচনী এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, তবুও ভোটের দিন পর্যন্ত এই স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি চট্টগ্রাম-৯ আসনের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।
অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইব্রাহীম আখতারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সভায় বক্তারা নির্বাচনকে ভীতিমুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক করার ওপর জোর দেন এবং মাওলানা ওয়াহেদ মুরাদের মতো উচ্চশিক্ষিত ও সজ্জন ব্যক্তিত্বদের সংসদে পাঠানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আহমদ রেজা এবং এতে মাস্টার আবুল হোসেন ও ছৈয়দ ফয়জুল আবেদীন আরমান ফরহাদাবাদীসহ বিশিষ্ট সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

