দেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের জন্য এখনো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসনের একটি অংশ এখনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে, যা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়।
রাজধানীর মগবাজারস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমীর-এ-জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নায়েবে আমীর, সেক্রেটারি জেনারেল এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়।
বৈঠক শেষে দেওয়া এক বিবৃতিতে জামায়াত জানায়, তৃণমূল পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রশাসনের কিছু সরকারি কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, তারা নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘন করে একটি বিশেষ দলের অনুকূলে মাঠ প্রস্তুত করছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে প্রকাশ্য দিবালোকে নেতা-কর্মীদের হত্যার ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির লক্ষণ হিসেবে দেখছে দলটি। তারা মনে করে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের পরিস্থিতি ভোটারদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ ১৬ বছরের লড়াই ও ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। প্রায় দেড় হাজার শহীদের রক্ত এবং হাজার হাজার মানুষের পঙ্গুত্ব বরণের বিনিময়ে অর্জিত এই ‘নতুন বাংলাদেশ’কে কোনোভাবেই কোনো কুচক্রী মহল বা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না। গণতন্ত্রের এই নতুন অগ্রযাত্রাকে সার্থক করতে হলে একটি শতভাগ নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের কোনো বিকল্প নেই বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। কোনো দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে দেশজুড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জামায়াতের এই কঠোর অবস্থান নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অন্যান্য শক্তির সঙ্গে জামায়াতের নির্বাচনী সমঝোতার খবরের মাঝে এই অভিযোগগুলো দেশের নির্বাচনী রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে।

