বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সমবায় দল কর্তৃক আয়োজিত এই কর্মসূচিটি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় এক বিশেষ প্রার্থনা সভা। সেখানে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছরের রাজপথের লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান আজ দেশের মানুষের অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হয়েছেন। আজ দেশের প্রতিটি প্রান্তে এই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, বিএনপিই আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে এবং তারেক রহমান হবেন এ দেশের মূল কর্ণধার।”
বক্তব্যে শামসুজ্জামান দুদু আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর মানুষের যে আস্থা রয়েছে, তা কেবল আবেগের বিষয় নয়; বরং আসন্ন নির্বাচনই হবে এর চূড়ান্ত প্রমাণ। তাই একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের সকল স্তরের মানুষকে এখন থেকেই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব হবে।
বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য নারী নেত্রী, যিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেও কখনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “অগণতান্ত্রিক ও প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হয়ে এই মহীয়সী নেত্রীকে দীর্ঘকাল কারাবরণ ও যথাযথ সুচিকিৎসার অভাব সহ্য করতে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরণীয়। তিনিই প্রথম ছাত্রীদের জন্য বিনা বেতনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আমি দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষক ও সম্মানিত শিক্ষকদের অনুরোধ জানাব— এই মহান নেত্রীর জীবন, তাঁর প্রবর্তিত শিক্ষা নীতি, কৃষি সংস্কার এবং শিল্পায়ন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা পরিচালনা করুন।”
কৃষকদলের সাবেক এই নেতা স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পর বেগম খালেদা জিয়া কৃষকদের ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছিলেন, যা ছিল তৎকালীন সময়ে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই সন্তানসহ তাঁর কারাবরণের স্মৃতি উল্লেখ করে দুদু বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তিনি কখনো আপস করেননি। তাঁর সেই আপসহীন আদর্শই আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিকে নতুন পথে নিয়ে যাচ্ছে।”
জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের সভাপতি নূর আফরজ বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই দোয়া মাহফিলে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সভার শেষে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি এবং তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

