দীর্ঘদিন ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর অবশেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেটে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এই চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হবে।
দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পদটি শূন্য হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিল বিএনপি। মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে রাজকীয়ভাবে প্রস্থান করেছেন। তার মৃত্যুতে তৈরি হওয়া শূন্যতা পূরণে এবং দলকে আরও গতিশীল করতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।”
সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এই সভায় মির্জা ফখরুল আগামী নির্বাচন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, বরাবরের মতো এবারও সিলেট থেকেই বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। নির্বাচন নিয়ে জনমনে বা সংবাদমাধ্যমে কোনো শঙ্কা থাকলেও বিএনপি কোনো শঙ্কা বোধ করছে না বরং উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারা প্রস্তুত।
মহাসচিবের বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো: চেয়ারম্যান পদ: বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর শূন্য হওয়া চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানের স্থলাভিষিক্ত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। নির্বাচনী প্রচারণা: হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে সিলেট থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা।
গণতন্ত্র ও মব ভায়োলেন্স: দেশে চলমান ‘মবোক্রেসি’ বা মব সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সংসদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। নির্বাচন কমিশন: কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ দীর্ঘদিন পর তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে, যা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, ১৮ বছর নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারেক রহমানের এই পদোন্নতি নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সিলেটের এই মতবিনিময় সভায় জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

