বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান সুদৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের ভিত্তি স্থাপনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে চিরস্মরণীয় বলে অভিহিত করেছে চীন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার যে দীর্ঘ পথচলা, তাতে বেগম জিয়ার ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় অম্লান হয়ে থাকবে।
মুখপাত্র লিন জিয়ান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “বেগম খালেদা জিয়া কেবল বাংলাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় নেত্রীই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন চীনা জনগণের একজন দীর্ঘদিনের পুরনো ও অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু। তাঁর মৃত্যুতে চীন সরকার এবং এ দেশের জনগণ গভীরভাবে শোকাহত। আমরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং শোকসন্তপ্ত জিয়া পরিবারের প্রতি আমাদের আন্তরিক সহমর্মিতা ও সহানুভূতি জ্ঞাপন করছি।”
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতিতে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলকে দুই দেশের সম্পর্কের ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়। মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর সক্রিয় প্রচেষ্টায় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব, সমতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতার একটি ব্যাপক ও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমান সময়ে দুই দেশের মধ্যে যে গভীর কৌশলগত সম্পর্ক বিদ্যমান, তার অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বেগম জিয়ার আমলেই সূচিত হয়েছিল বলে তিনি স্মরণ করেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা এবং বেগম জিয়াকে ‘পুরনো বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বেইজিং মনে করে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখা এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের সেতুবন্ধন তৈরিতে বেগম খালেদা জিয়া এক দূরদর্শী ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প এবং প্রতিরক্ষা খাতে চীনের সহযোগিতার যে ক্ষেত্রগুলো আজ দৃশ্যমান, তার পেছনে তাঁর রাজনৈতিক সদিচ্ছার বড় অবদান রয়েছে।
আজ বিকেলে যখন ঢাকার শেরেবাংলা নগরে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে বেগম খালেদা জিয়াকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হচ্ছে, তখন চীনের এই মন্তব্য তাঁর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও কূটনৈতিক দূরদর্শিতারই প্রমাণ দেয়। চীনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যকার এই অকৃত্রিম বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে এই প্রয়াত নেত্রীর প্রতি শ্রেষ্ঠ সম্মান। লিন জিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নে বেগম জিয়ার অবদান চীনের ইতিহাসে সবসময় উচ্চ মর্যাদায় সংরক্ষিত থাকবে।

