বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ মঙ্গলবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি এই শোক প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের প্রবীণ এই শীর্ষ রাজনীতিবিদের চিরবিদায়ের সংবাদে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতেও শোকের আবহ বিরাজ করছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বার্তায় বেগম খালেদা জিয়াকে একজন অন্যতম শক্তিশালী জননেত্রী হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি লেখেন, “বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা অন্যতম জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, ঘনিষ্ঠ পরিজন এবং তাঁর অগণিত রাজনৈতিক সহকর্মীদের প্রতি আমি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।” তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর এই শোকবার্তাটি দুই বাংলার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে একটি বিশেষ বার্তা প্রদান করেন। মোদি তাঁর বার্তায় খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেন। ২০১৫ সালে ঢাকা সফরের সময় বেগম জিয়ার সঙ্গে তাঁর হওয়া সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে মোদি বলেন, “বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের আর্থ-সামাজিক বিকাশ ও দুই দেশের মৈত্রী সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর এই প্রয়াণ একটি অপূরণীয় ক্ষতি।” তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, বেগম জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার দুই দেশের ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বকে পথপ্রদর্শন করবে।
ভারতের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতাদের এই শোকবার্তা প্রমাণ করে যে, বেগম খালেদা জিয়া কেবল বাংলাদেশের রাজনীতিতেই নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বিশেষ করে তাঁর শাসনামলে সার্ক (SAARC) শক্তিশালী করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্কের যে দর্শন তিনি লালন করতেন, তা আজও সমাদৃত।
উল্লেখ্য, টানা ৩৬ দিন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ ভোর ৬টায় এই মহীয়সী নেত্রীর জীবনাবসান ঘটে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং জানাজার দিন (বুধবার) দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে বেগম জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের শীর্ষ নেত্রী’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তাঁর প্রয়াণে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিবেশী ভারতের রাজনৈতিক মহলে বেগম খালেদা জিয়ার প্রভাব ও তাঁর চলে যাওয়ার এই মুহূর্তটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। আগামীকাল বুধবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

