বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। এই মহীয়সী নেত্রীর স্মৃতির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে আগামীকাল ঢাকা সফরে আসছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। আজ মঙ্গলবার ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী এই নেত্রীর মহাপ্রয়াণে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানরা গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছেন। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর কেবল ভারত সরকারের পক্ষ থেকে শোক জানাতেই আসছেন না, বরং তিনি বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জানাজায় অংশ নিয়ে তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। নয়াদিল্লির এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের সাথে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতিফলন এবং একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেত্রীর প্রতি সর্বোচ্চ কূটনৈতিক সম্মান হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
কেবল ভারতই নয়, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে আঞ্চলিক রাজনীতির আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। আগামীকাল বুধবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকা পৌঁছাবেন। এছাড়া ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মালদ্বীপের সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীও এই প্রবীণ নেত্রীর শেষ বিদায়ে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের আগমনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রোটোকল নিশ্চিত করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
বেগম খালেদা জিয়া কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নয়, বরং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক মহলে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা বিশ্বনেতাদের এই সফরের মধ্য দিয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরটি এই মুহূর্তে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে টানা ৪০ দিন ধরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৮০ বছর বয়সী এই দেশনেত্রী। গত ২৩ নভেম্বর আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত জটিল ছিল। তাঁর চিকিৎসায় গঠিত বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতার কাছে হার মানেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
আগামীকাল রাজধানীর নয়াপল্টন ও জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ নির্ধারিত স্থানগুলোতে মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হবে। বিদেশি প্রতিনিধিদের এই আগমন ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে রাজধানীজুড়ে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে এবং আগামীকাল দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

