রাজপথের লড়াইয়ে যাঁর নির্দেশ ছিল ধ্রুবতারা, সেই প্রিয় নেত্রীকে হারিয়ে আজ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বিএনপির নারী নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। কারও চোখ দিয়ে অঝোরে ঝরছে অশ্রু, কারওবা কান্নায় কাঁপছে ঠোঁট। দুই হাত তুলে মোনাজাতেরত অবস্থায় ডুকরে কাঁদতে দেখা গেছে দলের শত শত নারী কর্মীকে। তাঁদের সম্মিলিত দীর্ঘশ্বাসে আজ গুলশানের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
সকাল ৬টায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই গুলশান কার্যালয় ও তাঁর বাসভবন ‘ফিরোজা’র সামনে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে মহিলা দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। তাঁরা কার্যালয়ের ঠিক উল্টো পাশে সারিবদ্ধভাবে বসে প্রিয় নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও দোয়ায় মগ্ন হন।
মোনাজাতের এক পর্যায়ে দেখা যায়, উপস্থিত প্রায় সব নারী নেত্রীই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তাঁদের স্মৃতিতে ভাসছে গত চার দশকে বেগম জিয়ার দীর্ঘ সংগ্রাম, কারাবরণ এবং নারী উন্নয়নের জন্য তাঁর গৃহীত বিভিন্ন সাহসী পদক্ষেপের কথা।
মোনাজাতে অংশ নেওয়া গুলশান থানা মহিলা দলের সদস্য সচিব খালেদা ফারুকী বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, “আমরা আজ এতিম হয়ে গেলাম। তিনি আমাদের কাছে শুধু নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের মায়ের মতো পরম আশ্রয়। তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব আমাদের অন্ধকার সময়ে পথ দেখিয়েছে। এই শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হবার নয়।”
আরেক নারী নেত্রী মাহফুজা রেজা অশ্রুসিক্ত চোখে স্মৃতিচারণ করে বলেন, “তাঁকে আমরা ‘দেশনেত্রী’র চেয়ে ‘গণতন্ত্রের মা’ বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতাম। তাঁর হাত ধরেই এ দেশের নারীরা শিক্ষার আলো পেয়েছে, উপবৃত্তি পেয়েছে। আজ যখন তিনি চলে গেলেন, মনে হচ্ছে আমাদের মাথার ওপর থেকে ছায়া সরে গেছে।”
গুলশান কার্যালয় ঘিরে বেগম জিয়ার বহু স্মৃতি রয়েছে নারী কর্মীদের। আন্দোলন-সংগ্রামের উত্তাল দিনগুলোতে এখান থেকেই তিনি নেতাকর্মীদের সাহস জুগিয়েছেন। প্রিয় নেত্রীর চিরবিদায়ের দিনে সেই স্মৃতিগুলোই আজ বারংবার ফিরে আসছিল উপস্থিত কর্মীদের মুখে। মোনাজাত শেষেও অনেককে দীর্ঘক্ষণ সেখানে বসে নিরবে চোখের জল ফেলতে দেখা যায়।
আগামীকাল বুধবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিতব্য জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী নেত্রীরা ঢাকা অভিমুখে রওনা হয়েছেন। দলমত নির্বিশেষে নারী সমাজের এই শোকই বলে দিচ্ছে, বাংলাদেশের নারী ক্ষমতায়ন ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়া কতটা গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন।

