নতুন প্রজন্মের ভাবনার সাথে একাত্ম হতে এবং তরুণ সমাজের কণ্ঠস্বর সরাসরি শোনার লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে অংশ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ‘হ্যালো আওয়ার লিডার’ শীর্ষক এই বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি সরাসরি ‘জেন জি’ বা বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও যুবকদের মুখোমুখি হবেন। আগামীকালের এই আয়োজনটি রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রার যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে কোনো প্রথাগত ভাষণের পরিবর্তে প্রাধান্য পাবে তরুণদের প্রশ্ন এবং নেতার সরাসরি উত্তর।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) এই গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত তরুণদের বিভিন্ন গঠনমূলক ও সোজাসাপ্টা প্রশ্নের জবাব দেবেন। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং তরুণদের কর্মসংস্থান ও অধিকার নিয়ে সরাসরি আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা অত্যন্ত সচেতন এবং দেশ নিয়ে তাদের নিজস্ব স্বপ্ন ও জিজ্ঞাসা রয়েছে। আমরা চাই ছাত্র ও যুব সমাজ যেন তাদের নেতার সামনে নিঃসংকোচে নিজেদের মতামত তুলে ধরতে পারে। ‘হ্যালো আওয়ার লিডার’ ইভেন্টটি মূলত সেই আস্থার জায়গা তৈরি করার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের মতো একটি ক্যাডারভিত্তিক দলের শীর্ষ নেতার এভাবে সরাসরি তরুণদের মুখোমুখি হওয়া এবং উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেওয়া একটি উল্লেখযোগ্য কৌশলগত পরিবর্তন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের যে বিশাল রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি হয়েছে, তার সাথে খাপ খাইয়ে নিতেই দলটি এই আধুনিক ও অংশগ্রহণমূলক পথ বেছে নিয়েছে। বিশেষ করে ‘জেন জি’ প্রজন্মের ভাষা ও দাবি বুঝতে এই উদ্যোগ দলটির জন্য অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে।
আগামীকালের এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইতোমধ্যে ছাত্র ও যুব সমাজের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আয়োজকরা মনে করছেন, আগারগাঁওয়ের এই সম্মেলন কেন্দ্রটি কাল তরুণদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠবে। জামায়াত আমিরের এই সাহসী ও আধুনিক পদক্ষেপ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে ব্যাপক আলোচনা।
শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর এমন জনমুখী ও তরুণবান্ধব কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান শেষ পর্যন্ত তরুণদের কতটা সন্তুষ্ট করতে পারেন, তা জানার জন্য এখন অপেক্ষা কেবল আগামীকাল সকালের।

