দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের কালজয়ী মহাতারকা থালাপতি বিজয়কে ঘিরে ভক্তদের গগণচুম্বী উন্মাদনা চিরচেনা এক দৃশ্য। তবে সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ যখন বিশৃঙ্খলা ও উগ্রতায় রূপ নেয়, তখন তা জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই জনপ্রিয় অভিনেতাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি চলচ্চিত্র অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভক্তদের মাত্রাতিরিক্ত ভিড় এবং হুড়োহুড়ির কবলে পড়ে অভিনেতা কেবল নাজেহালই হননি, বরং তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে একটি বিশেষ সফর শেষে চেন্নাইয়ে অবতরণ করেন বিজয়। সেখানে তিনি তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘জননায়কন’-এর বর্ণাঢ্য অডিও লঞ্চ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। প্রিয় তারকাকে একনজর দেখার প্রত্যাশায় বিমানবন্দরের বহির্গমন পথে আগে থেকেই সমবেত হয়েছিলেন হাজারো অনুরাগী। বিজয় যখন টার্মিনাল থেকে বেরিয়ে নিজস্ব যানবাহনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, তখনই উপস্থিত জনতা আইনশৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে তাঁর ওপর আছড়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা কর্মীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। এক পর্যায়ে উন্মত্ত ভক্তরা বিজয়ের অত্যন্ত কাছাকাছি চলে আসেন এবং সেলফি তোলার বা ছোঁয়ার চেষ্টায় তাঁর পোশাক ধরে টানাটানি শুরু করেন। ভিড়ের প্রবল চাপে ভারসাম্য হারিয়ে অভিনেতা পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলে তাঁর ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা মানবপ্রাচীর তৈরি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভক্তদের এই ‘আক্রমণাত্মক ভালোবাসার’ কারণে বিজয়ের পরনের জামা পর্যন্ত ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। চরম অস্বস্তিকর এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দীর্ঘ কসরত শেষে কোনোমতে তিনি নিজের গাড়িতে উঠতে সক্ষম হন।
এই ঘটনাটি কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো বিশৃঙ্খলা নয়, বরং এটি বর্তমানে বিনোদন জগতের তারকাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নাজুক চিত্রকে আবারও জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিধি আগারওয়াল, হর্ষবর্ধন রানে এবং সামান্থা রুথ প্রভুর মতো জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীদের ক্ষেত্রেও জনসমক্ষে একই ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। অনুরাগী ও সাধারণ মানুষের এমন উগ্র আচরণ এবং ব্যক্তিগত সীমানা লঙ্ঘন করার প্রবণতা এখন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মহলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তারকাদের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই আবেগের বশবর্তী হয়ে কারো শারীরিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা বা জনজীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর মতো স্পর্শকাতর স্থানে এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত ভিড় বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
থালাপতি বিজয়ের এই বিব্রতকর অভিজ্ঞতা দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা পাড়ায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তারকাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে আরও কঠোর ও সুসংগঠিত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলছেন সিনেমাপ্রেমীরা। ভক্তদের মনে রাখতে হবে যে, পর্দার নায়কদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সর্বোত্তম উপায় হলো তাঁদের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। বিজয়ের মতো একজন প্রভাবশালী তারকার ক্ষেত্রে এমন নিরাপত্তা বিচ্যুতি ভবিষ্যতে বড় কোনো বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে কিনা, তা এখন সংশ্লিষ্ট মহলের পর্যালোচনার বিষয়।

