বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। দীর্ঘ আলোচনা ও আসন সমঝোতা নিয়ে নানামুখী টানাপোড়েন শেষে অবশেষে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় পৌঁছেছে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলো। এই সমঝোতায় বিদ্যমান আট দলের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এবং আলোচিত রাজনৈতিক শক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
রোববার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে এই নির্বাচনী জোট ও আসন বণ্টনের বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আন্দোলনরত দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিসসহ মোট আটটি সমমনা দল যুক্ত ছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নির্বাচনী কৌশল বিবেচনায় জোটের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম নিশ্চিত করেছেন যে, নতুন করে এলডিপি, এবি পার্টি এবং এনসিপি এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নির্বাচনী লড়াইয়ে এক শক্তিশালী মোর্চার আত্মপ্রকাশ ঘটছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) দেওয়া আসন সংখ্যা নিয়ে। প্রাথমিকভাবে এনসিপি ৫০টি আসনের দাবি জানালেও বর্তমান সমঝোতা অনুযায়ী তাদের জন্য ২০ থেকে ২৫টি আসন বরাদ্দ থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, এলডিপি ও এবি পার্টিকেও নির্দিষ্ট সংখ্যক আসনে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে জোটের পরিধি বাড়ায় প্রতিটি দলের ভাগে পড়া আসনের সংখ্যা কিছুটা সংকুচিত হয়েছে, যা নিয়ে গত দুদিন ধরে ব্যাপক ‘দড়ি-টানাটানি’ ও দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের সঙ্গে এই নতুন দলগুলোর জোটবদ্ধ হওয়া নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে এনসিপির মতো গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রজন্মের দলের অন্তর্ভুক্তি তরুণ ভোটারদের মধ্যে এই জোটের আবেদন বাড়াতে পারে। যদিও এনসিপির ভেতরে এই জোট গঠন নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও শীর্ষ পর্যায়ের পদত্যাগের খবর পাওয়া গেছে, তবুও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে কোন দল কোন কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং জোটের অভিন্ন নির্বাচনী ইশতেহার কী হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত ধারণা পাওয়া যাবে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের আগে বড় দুটি রাজনৈতিক শিবিরের পাশাপাশি তৃতীয় আরেকটি শক্তিশালী জোটের অবয়ব স্পষ্ট হবে।

