দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস ও নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর প্রথম দাপ্তরিক কার্যাদি শুরু করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার দুপুরে রাজধানী গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নিজ চেম্বারে বসার মাধ্যমে তিনি এই নতুন যাত্রার সূচনা করেন। তার এই আগমনে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
দলীয় সূত্র মতে, রোববার দুপুর ১টা ৪৮ মিনিটে তারেক রহমান গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯ নম্বর বাসভবন থেকে বের হয়ে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানোর পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সেলিমা রহমান তাকে পুষ্পস্তবক দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে তিনি কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় তার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত আধুনিক দপ্তরে প্রবেশ করেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করেন।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক ও দলের মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান। তিনি একে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “এটি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রথম আনুষ্ঠানিক অফিস। এর মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতির সঞ্চার হবে।” অনুষ্ঠানে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলসহ বগুড়া জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত ও দলীয় নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। তারেক রহমানের সুবিধার্থে কেবল গুলশান কার্যালয়ই নয়, নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও একটি সুসজ্জিত চেম্বার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের যাবতীয় কৌশল ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গুলশানে পৃথক একটি বিশেষ নির্বাচনী কার্যালয় ভাড়া নেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে তারেক রহমান ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে দল থেকে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতাদের দাবি, নির্বাচনে জয়লাভ করে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তারেক রহমানই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকেই অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে বীরোচিত সংবর্ধনা গ্রহণের পর তিনি সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। পরবর্তী দিনগুলোতে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার, জাতীয় কবির মাজার এবং পিলখানা ট্র্যাজেডিতে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত করেন। গত শনিবার তিনি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন, যা তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথকে আইনিভাবে সুসংহত করেছে।
তারেক রহমানের এই দাপ্তরিক সক্রিয়তা এবং নির্বাচনী ময়দানে সরব উপস্থিতি বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমীকরণকে নতুন মাত্রা দেবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

