শনিবার রাতে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের বাসভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। আমিরের আমন্ত্রণে জাহিদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত হলে তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। আলোচনার একপর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমানের উপস্থিতিতেই জাহিদুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক ফরম পূরণ করে সদস্যপদ গ্রহণ করেন। এ সময় জামায়াত আমির তাকে উত্তরীয় পরিয়ে অভিনন্দন জানান এবং আগামী দিনে দেশের কল্যাণে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেন।
বিদায়ী ছাত্রশিবির সভাপতি তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, দীর্ঘদিনের ছাত্ররাজনীতির ক্লান্তি শেষে তিনি কিছুটা বিশ্রামের পরিকল্পনা করেছিলেন। জাহিদুল ইসলাম বলেন, “গতকালই (শুক্রবার) সংগঠন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছি। ভেবেছিলাম কিছুকাল নিজের মতো থাকব, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের সময় দেব। কিন্তু আমিরে জামায়াতের স্নেহপূর্ণ দাওয়াত আর উপেক্ষা করতে পারলাম না। তিনি আমাকে দলের সমর্থক ফরম ধরিয়ে দিয়েছেন এবং সক্রিয়ভাবে সময় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।”
ইসলামী আন্দোলনের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে জাহিদুল ইসলাম একটি কবিতার পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করেন— “নহে সমাপ্ত কর্ম মোদের অবসর কোথা বিশ্রামের, উজ্জ্বল হয়ে ফুটেনি আজও সুবিমল জ্যোতি তাওহীদের।” তিনি মনে করেন, আদর্শিক আন্দোলনের পথচলায় ব্যক্তিগত বিশ্রামের চেয়েও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করা অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। জামায়াতে যোগদানের মাধ্যমে তিনি মূলত বৃহত্তর পরিসরে জনসেবার সংকল্প গ্রহণ করেছেন।
উল্লেখ্য যে, গত শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ছাত্রশিবিরের বিশাল সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনেই ২০২৬ সেশনের জন্য নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হয়। সারা দেশের সদস্যদের প্রত্যক্ষ অনলাইন ভোটে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন এবং সিবগাতুল্লাহ সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মনোনীত হন। উক্ত সম্মেলনেই গত এক বছর সফলতার সাথে সভাপতির দায়িত্ব পালন করা জাহিদুল ইসলামকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হয়েছিল।
ছাত্রশিবিরের সংবিধান অনুযায়ী, দায়িত্ব পালন শেষে সভাপতিরা সাধারণত মূল দল জামায়াতে ইসলামীতেই যুক্ত হন। জাহিদুল ইসলামের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বিদায় নেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমিরের বাসায় তার এই যোগদান রাজনৈতিক মহলে বেশ ইতিবাচক আলোচনা তৈরি করেছে। জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতারা মনে করছেন, জাহিদুল ইসলামের মতো অভিজ্ঞ ছাত্রনেতারা মূল দলে যুক্ত হওয়ায় দলের সাংগঠনিক শক্তি ও যুব-নেতৃত্ব আরও সুসংহত হবে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর নতুন ও তরুণ নেতৃত্বের প্রতি এই বিশেষ নজরদারি দলের ভবিষ্যৎ রূপরেখায় এক নতুন মাত্রা যোগ করছে। জাহিদুল ইসলামের এই সক্রিয় যোগদান আগামী দিনে জামায়াতের কর্মকাণ্ডে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

